Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোরের মধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ (Humayun Kabir)। প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া বিধায়ককে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাতে নির্দেশ দিল আদালত। তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্র যে ক্যাটেগরিরই নিরাপত্তা দিক না কেন তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে হবে হুমায়ুন কবীরকেই।

বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানি (Humayun Kabir)
সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। মামলার শুনানিতে হুমায়ুন কবীরের আইনজীবী সওয়াল করেন, বর্তমানে বিধায়ক হিসেবে যে নিরাপত্তা তিনি পাচ্ছেন, তা মোটেই যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় শাস্তি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে তাঁর জীবনের উপর গুরুতর হুমকি রয়েছে বলেই দাবি করা হয় আদালতে। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারপতি নির্দেশ দেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেতে হলে বিধায়ককে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাতে হবে। সেই আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে দু’সপ্তাহ।
নিরাপত্তার খরচ বহনের নির্দেশ (Humayun Kabir)
আদালতের নির্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানান, কেন্দ্র যদি জেড বা ওয়াই যে কোনও ক্যাটেগরির নিরাপত্তা অনুমোদন করে, তার সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার হুমায়ুন কবীরকেই বহন করতে হবে। অর্থাৎ, সরকারি কোষাগার থেকে এই নিরাপত্তার খরচ দেওয়া হবে না। এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত একদিকে যেমন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধের বার্তাও দিয়েছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
দলীয় সাসপেনশন ও নিরাপত্তা বিতর্ক (Humayun Kabir)
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগেই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করে। সাসপেনশনের পর থেকেই তিনি প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। এর মধ্যেই তাঁর নিরাপত্তায় থাকা রাজ্য পুলিশের এক কর্মীর সঙ্গে বিতর্কে জড়ান বিধায়কের পুত্র, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পাশাপাশি, গত কয়েকদিনে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয় বিধায়ককে।
কেন্দ্রের কাছেও জবাবদিহি চেয়েছিল আদালত
এই মামলায় এর আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব তলব করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার সেই মামলাই ফের শুনানির জন্য ওঠে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয় এবং সেই পথেই আবেদন জানাতে হবে।



