Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রচলিত ধর্মীয় আচার-আচরণের বাইরে গিয়ে ‘ধর্ম’ নামক গভীর ও বিস্তৃত ধারণাটিকে একটি গবেষণা-নির্ভর, আন্তঃবিভাগীয় একাডেমিক ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আইআইটি ভুবনেশ্বরে (IIT Bhubaneswar) শুরু হল প্রথম বার্ষিক ধর্ম স্টাডিজ সম্মেলন (DSC 2025)।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এর মূল লক্ষ্য হল, ধর্মকে নৈতিকতা, সামাজিক কর্তব্য, সংস্কৃতি, দর্শন এবং সভ্যতার ভিত্তি-নির্মাণে সহায়ক একটি বিস্তৃত ধারণা হিসেবে তুলে ধরা।
আরও পড়ুন:Babri Masjid: বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে অবরুদ্ধ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক, বেলডাঙায় বিশাল যানজট
এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে (IIT Bhubaneswar)। এর মধ্যে রয়েছে: বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ, ভুবনেশ্বরের ভক্তিবেদান্ত ইনস্টিটিউট, আইআইটি রূড়কির হিউম্যানিটিজ ও সোশ্যাল সায়েন্সেস বিভাগ, কলকাতার ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার, সাম্মাক্কা সারাক্কা সেন্ট্রাল ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটি, ফ্লেম ইউনিভার্সিটির ইন্ডিয়া সেন্টার এবং হায়দরাবাদের ইএফএল ইউনিভার্সিটি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গীতার প্রাসঙ্গিকতা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোবর্ধন ইকোভিলেজের ডিরেক্টর ও ইস্কন গভর্নিং বডি কমিশনের সদস্য শ্রী গৌরাঙ্গ দাস। তিনি তাঁর বক্তব্যে আজকের বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলির কথা তুলে ধরেন (IIT Bhubaneswar) । তিনি বলেন, “আজকের পৃথিবী অভূতপূর্ব মানসিক চাপ, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ও সামাজিক ভাঙনের মুখোমুখি। ধর্ম এমন এক কাঠামো যা সমাজে পুনরায় সুষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে। গীতার শিক্ষা পরিচয়ের স্থিরতা, উদ্দেশ্যের পবিত্রতা ও কর্মের তীব্রতা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”

আইআইটি ভুবনেশ্বরের (IIT Bhubaneswar) পরিচালক প্রফেসর শ্রীপদ কামালকার সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, “ধর্ম ভারতের এক অনন্য ও গভীর বোধ যার সরল অনুবাদ সম্ভব নয়। তাই এর গবেষণামূলক অধ্যয়ন আরও শক্তিশালী হওয়া জরুরি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আইআইটি ভুবনেশ্বর ধর্মকে একটি সভ্যতাগত ধারণা হিসেবে নতুন গবেষণার পথ উন্মুক্ত করতে চায়।”
আরও পড়ুন:Winter: সপ্তাহান্তে শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং: মরশুমের শীতলতম দিন কলকাতায়, জাঁকিয়ে শীতের আমেজ রাজ্যজুড়ে
সম্মেলনের আহ্বায়ক ড. অক্ষয় কে. রথ ধর্মকে একটি বহুবিধ ও আন্তঃসাংস্কৃতিক গবেষণাক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহ-আয়োজক ড. নরেশ চন্দ্র সাহু।
বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা ও অংশগ্রহণ
সম্মেলনে দুটি বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়: ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার প্রবর্তিত এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ অ্যাওয়ার্ড এবং প্রফেসর হোশাং মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠিত হাবিজ মার্চেন্ট সেরা প্রবন্ধ পুরস্কার।
মানবিক বিজ্ঞান, আইন, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন, সাংস্কৃতিক গবেষণা, শিক্ষাবিদ্যা ও প্রযুক্তি—এই সমস্ত ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে DSC 2025 ধর্মকে সমকালীন নৈতিকতা, পরিবেশচেতনা ও সামাজিক দর্শনের আধুনিক কাঠামো হিসেবে নতুন আলোচনার মঞ্চ তৈরি করেছে।


