Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : দীর্ঘ কূটনৈতিক উত্তেজনার পর অবশেষে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে পা বাড়াচ্ছে ভারত ও কানাডা(India Canada Relation)। আগামী সপ্তাহেই নয়াদিল্লিতে আসছেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের পার্শ্ব বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (Dr. S. Jaishankar) সঙ্গে তাঁর সদ্য হওয়া বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবেই এই সফর বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় (India Canada Relation)
জাস্টিন ট্রুডোর সময় থেকেই ভারত-কানাডা সম্পর্ক কার্যত তলানিতে ঠেকেছিল(India Canada Relation)। খলিস্তান ইস্যুতে ট্রুডোর সরকারের কটূ মন্তব্য, তার পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির কঠোর প্রতিক্রিয়া— দুই দেশেই তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। কানাডার মাটিতে ভারতীয় কূটনীতিকদের উপর হামলা, খলিস্তানপন্থী নেতাদের উস্কানি এবং ‘ভারতের জড়িত থাকা’ প্রসঙ্গে ট্রুডোর অভিযোগে আরও খারাপ হয় পরিস্থিতি।
তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রুডোর ইস্তফার পর রাজনৈতিক পরিবেশ বদলায়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নে, যিনি শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে অবস্থান নেন। দিল্লির সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক সংলাপের উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে অনিতা আনন্দের এই সফরকে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতা (India Canada Relation)
কার্নের মন্ত্রিসভায় চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মন্ত্রী রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনিতা অন্যতম প্রভাবশালী মুখ(India Canada Relation)। তাই তাঁর সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, প্রতীকী বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি দিল্লিতে এস জয়শঙ্কর ছাড়াও বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সূত্রের খবর। আলোচনায় উঠে আসতে পারে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময়, ছাত্র-অভিবাসন, এবং সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত বিষয়গুলি।

আরও পড়ুন : TTP Attack On Pak Paramilitary : আফগান সীমান্তে পাক আধাসেনার গাড়িতে রক্তক্ষয়ী হামলা টিটিপি-র, নিহত ১১
কার্নের মন্তব্যে বিতর্কিত(India Canada Relation)
অনিতার সফরের আগে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে(India Canada Relation)। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারত-পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজ়ারবাইজানে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে ট্রাম্পের নেতৃত্বেই।” দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এই বক্তব্য নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ভারত সরাসরি মন্তব্য না করলেও বিষয়টি নজরে রেখেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রক।

আরও পড়ুন : Khorasan Province : কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাইছে পাকিস্তান! বালোচ-টিটিপি রুখতে আইএসআই-এর মিত্র খোরাসান
খলিস্তান ইস্যুতে অতীতের ছায়া
২০২৩ সালে খলিস্তান টাইগার ফোর্সের নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনের ঘটনায় ট্রুডো প্রশাসনের অভিযোগে ভারত-কানাডা সম্পর্ক কার্যত ভেঙে পড়েছিল(India Canada Relation)। ট্রুডো দাবি করেছিলেন, নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্টরা যুক্ত। নয়াদিল্লি তীব্র ভাষায় সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, “এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
দিল্লির আশাবাদ(India Canada Relation)
কূটনৈতিক মহলের মতে, কার্নে সরকারের আগমন কানাডার পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ভারসাম্য এনেছে। ট্রুডোর তুলনায় কার্নে বাস্তববাদী ও অর্থনৈতিক সম্পর্কমুখী। অনিতা আনন্দের সফর সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়, তবে এ সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।


