Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বহু প্রতীক্ষিত ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অবশেষে চূড়ান্ত। জানালেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন(India EU FTA)। তিনি ঘোষণা করেন এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বিশাল মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে উঠবে, যা উভয় পক্ষের জন্যই উপযুক্ত এবং সমান সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।
ভারত–ইইউ শীর্ষ বৈঠক (India EU FTA)
নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত–ইইউ শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে ভন ডার লেয়েন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, ইইউর বিদেশসচিব কাজা কাল্লাসসহ শীর্ষ ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতে এসেছেন। সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসেও ভন ডার লেয়েন ও কস্তা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে
এক বিবৃতিতে ভন ডার লেয়েন বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি সূচনা মাত্র। ভবিষ্যতে ভারত ইইউ সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে। শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভন ডার লেয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এফটিএ ছাড়াও আরও দুটি চুক্তি এবং ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের যৌথ বিস্তৃত কূটনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে চুক্তি (India EU FTA)
এর আগে, কাজা কাল্লাস জানিয়েছিলেন যে এই চুক্তির ফলে বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ জুড়ে একটি বাণিজ্য ব্লক তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ও ইইউর বাণিজ্য আলোচনা যেখানে টানাপোড়েনে ভরপুর ছিল, সেখানে ভারত–ইইউ আলোচনা হয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে। এতে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ খাতের ‘রেড লাইন’ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ইইউর গাড়ি, মদ, ওয়াইন ও যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত বিষয়গুলিও বিবেচনা করা হয়েছে।
দুপক্ষেরই সমান সুবিধা (India EU FTA)
এই চুক্তির ফলে ভারত ইউরোপের বাজারে বস্ত্র, সামুদ্রিক খাদ্য ও রাসায়নিক পণ্যের রফতানিতে বড় সুবিধা পাবে, যা সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্কনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অপরদিকে, ইইউ ভারতের বাজারে উন্নত যন্ত্রপাতি, উড়োজাহাজ, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামে সহজ প্রবেশাধিকার পাবে।
আরও পড়ুন: India EU: ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: স্বাধীনভাবে এগিয়ে চলার বার্তা
বিশ্বের শক্তির ভারসাম্যে বিকল্প শক্তি (India EU FTA)
এই আলোচনা গত বছর নতুন গতি পায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধের আবহে এর গুরুত্ব আরও বাড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু ভারত ও ইইউর অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেনি, বরং বিশ্বের শক্তির ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা শক্তি হিসেবেও আবির্ভূত হয়েছে।



