Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতে এমন কিছু জায়গা আছে যা একদম শেষে অবস্থিত বা শেষ স্থান হিসেবে পরিচিত (Offbeat Places)। ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তে সেইসব জায়গাগুলো একবার ঘুরে আসতেই পারেন।
অন্তিমের সন্ধানে (Offbeat Places)
অনেকেই আছেন যাঁরা চলতি হাওয়ার বিপরীতে গিয়ে কিছু করতে ভালবাসেন। ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা বেছে নেন এমন কিছু জায়গা যেখানে হয়তো খুব বেশি কেউ যায় নিই বা সেইসব জায়গার নাম লোক মুখে অতো প্রচলিত না। কিন্তু একবার যাঁরা প্রচলিত জায়গার বাইরে গিয়ে ঘুরে এসেছেন অপ্রচলিত কিছু জায়গা থেকে তাঁরা অবশ্যই ফিরেছেন নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে। আজ আমরা তেমনই কিছু জায়গার খোঁজ দিতে চলেছি যেগুলো ‘শেষে অবস্থিত’ (Offbeat Places)।
দেশের শেষ দোকান বা ‘হিন্দুস্তান কা অন্তিম দুকান’
পাহাড়ের গায়েই অতি-সাধারণ একটি দোকান। ভিতরে বসার জায়গা থাকলেও আড়ম্বরহীন তার চেহারা। উপরে নীল সাইনবোর্ডের হিন্দি ভাষায় লেখা ‘হিন্দুস্তান কি অন্তিন দুকান’। হ্যাঁ আক্ষরিক অর্থেই এটি দেশের শেষ দোকান। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার ভারত-চিন সীমান্তে এই দোকানটি অবস্থিত। এটি মূলত একটি চায়ের দোকান। দোকানের বয়স প্রায় ২৫ বছর। মালিকের নাম চন্দের সিং বড়ওয়াল। চা ছাড়াও টুকটাক মুখরোচক খাবার এখানে মেলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,১১৮ মিটার উপরে এই দোকানটি অবস্থিত।

দেশের শেষ গ্রাম
হঠাৎ করে এরকম কিছু শুনলে ভয় লাগতেই পারে কিন্তু এখানে শেষ গ্রামের অর্থ সীমান্তবর্তী গ্রাম। এরকম অনেক গ্রাম হয়তো দেশের অনেক সীমান্তবর্তী এলাকাতেই রয়েছে। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের এই গ্রামটিকে সরকারিভাবে ‘শেষ গ্রাম’ বলে জানানো হয়েছে। গ্রামে যাওয়ার পথে সাইন বোর্ডে লেখা, ‘ভারতের শেষ গ্রাম’।
শেষ ভারতীয় গ্রাম কোনটি তা নিয়ে উত্তরাখণ্ডের মানা এবং হিমাচল প্রদেশের চিতকুলের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিবাদ থাকলেও সরকারি হিসেবে উত্তরাখণ্ডের ‘মানা’ ‘ভারতের শেষ গ্রাম’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে (Offbeat Places)।

গ্রাম দুটি অবস্থান করছে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩২০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত মানার ঠিক পাশ দিয়েই বয়ে গেছে সরস্বতী নদী। মহাভারতেও মানা গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই গ্রাম থেকেই স্বর্গের পথ যায় বলে মনে করা হয়। মহাভারত অনুসারে মানা গ্রাম থেকে মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করেছিলেন পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদী।
আরও পড়ুন: India Russia Relations: মস্কোয় গিয়েছেন ডোভাল, পুতিনের ভারত সফর শুধু সময়ের অপেক্ষা
মানা এবং বদ্রিনাথ যাওয়ার সেরা সময় মে থেকে জুন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে ভ্রমণ করা যায়। তবে এর পর এই স্থান বরফে ঢেকে যায়। বদ্রিনাথ ছাড়াও নীলকন্ঠ শৃঙ্গ, তপ্ত কুণ্ড, বসুধারা, ব্যাস গুহা, ভীমা পুল ইত্যাদি মানার দর্শণীয় স্থান (Offbeat Places)।
দেশের শেষ রাস্তা
তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম দ্বীপে অবস্থিত ধনুশকোডি ভারতের শেষ ভূমি হিসেবে পরিচিত। এবং এখানকার উপকূলবর্তী পথটিকে বলা হয় ভারতের শেষ পথ। এখানেই শ্রীলঙ্কার দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার।

১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে, রামেশ্বরমের এই শহরে এক প্রবল ঘূর্ণিঝড় হয় এবং তার ফলে শহরটি একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সরকার থেকেও বসবাসের অনুপযোগী বলে ঘোষণা করা হয়। পরিত্যক্ত হওয়ার পর থেকে ধনুশকোডিকে ভৌতিক শহরও বলা হয়। দিনের বেলায় এখানে তাও লোকজনকে আসতে দেওয়া হয়। কিন্তু রাতের বেলা এখান প্রবেশ নিষেধ (Offbeat Places)।
পুরাণ অনুসারে লঙ্কা প্রবেশের জন্য এখান থেকেই সেতু নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন পুরুষোত্তম রাম। ভারতের রামেশ্বরম দ্বীপের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার মান্নার দ্বীপের সংযোগকারী এই সেতুটি ‘অ্যাডামস ব্রিজ’ নামেও পরিচিত।


