Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আমেরিকার সঙ্গে চলতে থাকা বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের আবহে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিল রাশিয়া(India Russia Relationship)। মস্কো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন শুল্কযুদ্ধের ফলে ভারতীয় পণ্য যদি আমেরিকার বাজারে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে, তবে রাশিয়ার দরজা ভারতের জন্য খোলা থাকবে। একইসঙ্গে রাশিয়া আশ্বাস দিয়েছে, নয়াদিল্লির কাছে তেল বিক্রি কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। চলতি বছরের শেষেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে ভারত সফরে আসবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ট্রাম্পের অসন্তোষ ও অতিরিক্ত শুল্ক (India Russia Relationship)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন(India Russia Relationship)। তাঁর অভিযোগ, নয়াদিল্লি রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে তেল আমদানি করে মস্কোর যুদ্ধযন্ত্রকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছে। সেই কারণেই আমেরিকা ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা আগামী ২৮ অগস্ট থেকে কার্যকর হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ব্যবসার মুনাফা ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করছে। তবে শুরু থেকেই এই যুক্তির বিরোধিতা করে আসছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নয়াদিল্লি তার জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, এবং সেটি আন্তর্জাতিক আইনবিরুদ্ধ নয়।
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া (India Russia Relationship)
নয়াদিল্লিতে রুশ দূতাবাসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার(India Russia Relationship)। ভারতীয় পণ্যের জন্য রাশিয়ার বাজার খোলা থাকবে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রতিবছর অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দূতাবাসের তরফে আরও জানানো হয়েছে, রাশিয়া ভারতের সঙ্গে শুধু জ্বালানি নয়, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং কৃষিক্ষেত্রেও সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে।

আরও পড়ুন : Earthquake : ভূমিকম্পে ফের কাঁপল হিমাচল প্রদেশের চাম্বা!
পুতিনের ভারত সফর (India Russia Relationship)
চলতি বছরের শেষেই নয়াদিল্লি সফরে আসবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন(India Russia Relationship)। যদিও সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবুও কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। পুতিন ও মোদীর (Narendra Modi) বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন চাপের মুখেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যে দৃঢ়, এই সফর তারই প্রতিফলন।

আরও পড়ুন : ISRO : ৭৫,০০০ কেজি পেলোড বহনে সক্ষম রকেট বানাচ্ছে ইসরো,জানালেন চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন
আঞ্চলিক সহযোগিতায় বার্তা (India Russia Relationship)
রাশিয়া শুধু নয়াদিল্লির প্রতি সমর্থনই জানায়নি, বরং বেজিংয়ের প্রতিও সদর্থক বার্তা দিয়েছে(India Russia Relationship)। রুশ দূতাবাস সূত্রে খবর, শীঘ্রই ভারত–চিন–রাশিয়া ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় এই তিন শক্তিধর দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমের চাপ সত্ত্বেও এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়া তার প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে।
মার্কিন শুল্কযুদ্ধ ঘিরে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েন যতই বাড়ুক, রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট – নয়াদিল্লির পাশে থাকবে মস্কো। ভারতকে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখা থেকে শুরু করে বাজার খোলা রাখা— সব দিকেই সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। আসন্ন পুতিন-মোদী বৈঠক তাই শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই নয়, আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।


