Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুন করে গুরুত্ব দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (India US Diplomacy)। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে সোমবার বৈঠকের পর তিনি বলেন, ভারত আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ওষুধ, মূল্যবান খনিজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয় আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতির পরিপ্রেক্ষিত (India US Diplomacy)
গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ককে টানাপোড়েনের মধ্যে ফেলেছে (India US Diplomacy)। জুলাই ২০২৫-এ ট্রাম্প ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সেইসঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়। এর ফলে ভারতের উপর মোট শুল্কের হার বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছে যায়।
শুল্ক-কোপের ধাক্কায় ভারত-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জয়শঙ্কর এবং রুবিওর বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিষয় (India US Diplomacy)
রুবিও (Secretary Marco Rubio) বৈঠকের পর জানান, বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও ওষুধ খাতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে (India US Diplomacy)। বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা চলে। জয়শঙ্করও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করে ভালো লাগলো। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিস্তারিত কথাবার্তা হয়েছে, যদিও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন: US H-1B Visa : ট্রাম্পের নতুন এইচ-১বি ভিসা নীতিতে বিপাকে পড়ছে একাধিক মার্কিন সংস্থা
সম্প্রতি উদ্যোগ এবং সমাধানের সম্ভাবনা
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ফের মসৃণ করার চেষ্টা শুরু করেছে (India US Diplomacy)। গত সপ্তাহে ভারত থেকে মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার প্রতিনিধি দল ভারতে সফর করেছেন। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান তার প্রশাসনের জন্য অগ্রাধিকার।
ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন বলেছেন, শুল্ক-সংক্রান্ত সমস্যা ৮-১০ সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হতে পারে। এই কূটনৈতিক সমীকরণের নতুন প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর ও রুবিওর বৈঠকে বাণিজ্যের প্রসঙ্গ ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট (India US Diplomacy)
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল স্বীকার করা হলেও, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কাটাতে ভারতের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে (India US Diplomacy)। ট্রাম্প নিজেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে চান। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
জয়শঙ্কর ও রুবিওর বৈঠক স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের গুরুত্ব উভয় পক্ষই স্বীকার করছে(India US Diplomacy)। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতেও বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে মসৃণ করার চেষ্টা চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে শুল্ক-সংক্রান্ত সমাধান হলে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।


