Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবায় বিপর্যয় (Indigo Crisis) জারি রয়েছে আজও। বুধবার দুপুর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি আরও বেড়েছে। শুধু আজই দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০০-র বেশি উড়ান বাতিল হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রথম দিন সমস্যা দেখা দেওয়ার পর কেটে গিয়েছে আট দিন-তবুও পরিষেবা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে পারেনি দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থাটি।
প্রায় সাড়ে চার হাজার উড়ান বাতিল (Indigo Crisis)
ঘরোয়া উড়ানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলিও (Indigo Crisis) বিপাকে পড়েছে। গত ন’দিনে বিভিন্ন রুট মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার উড়ান বাতিল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবারও দিল্লি, কলকাতা, অহমেদাবাদসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলিতে বহু পরিষেবা বাতিল করতে বাধ্য হয় ইন্ডিগো।

মোট ক্ষতির অঙ্ক হাজার কোটি টাকারও বেশি (Indigo Crisis)
ফ্লাইট বিপর্যয়ের রেশ এবার সরাসরি গিয়ে লাগছে রাজধানীর (Indigo Crisis) ব্যবসা-বাণিজ্যে। দিল্লির চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই)-এর হিসাব বলছে, টানা বিমান পরিষেবা বিঘ্নের ফলে গত কয়েক দিনে রাজধানীর শিল্প, পাইকারি বাজার, পর্যটন ও হোটেল শিল্প মিলিয়ে মোট ক্ষতির অঙ্ক হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বহু পর্যটকই দিল্লিতে পৌঁছতে পারেননি
সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গয়ালের মতে, বিগত ১০ দিনে দিল্লির বাজারে মানুষের আনাগোনা প্রায় এক চতুর্থাংশ কমে গিয়েছে। তিনি জানান, দিল্লিতে প্রতিদিন দেড় লক্ষেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ব্যবসায়ী। অনেক বিদেশি এবং ঘরোয়া পর্যটকও দিল্লির হোটেল, রেস্তরাঁ, শপিং সেন্টার এবং প্রদর্শনীগুলির বড় ক্রেতা। কিন্তু ইন্ডিগোর একের পর এক উড়ান বাতিলের ফলে বহু পর্যটকই দিল্লিতে পৌঁছতে পারেননি।
বড়দিন ও নববর্ষের বুকিং বাতিলের প্রবণতা
প্রগতি ময়দান কিংবা আনন্দমণ্ডপে চলতে থাকা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীগুলিতেও এর প্রভাব পড়েছে। অটোমোবাইল, তাঁত, টেক্সটাইল ও গৃহসজ্জা বিষয়ক মেলা-যেখানে ক্রেতা ও অংশগ্রহণকারী আসেন দেশ-বিদেশ থেকে-সেসবের ভিড় কমতে শুরু করেছে। এমনকি বড়দিন ও নববর্ষের বুকিংয়েও বাতিলের প্রবণতা বাড়ছে।
বিপর্যয়ের তদন্ত চলছে দ্রুতগতিতে
এদিকে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডুর নির্দেশে বিপর্যয়ের তদন্ত চলছে দ্রুতগতিতে। কেন্দ্র ইতিমধ্যে ইন্ডিগোকে ‘শো-কজ’ নোটিস পাঠিয়েছে এবং বিমান সংস্থার ব্যবস্থাপনাকে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে, যারা সমস্যার উৎস এবং দায়ীদের খুঁজে বের করছে।
উড়ান বাতিলের সংখ্যায় জর্জরিত পরিস্থিতিতে ডিজিসিএও ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যেই ইন্ডিগোর শীতকালীন ফ্লাইট সূচি থেকে ১০ শতাংশ পরিষেবা কমিয়ে দিয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংস্থা দ্রুত নতুন সূচি প্রকাশ করবে এবং বাতিল হওয়া টিকিটের পূর্ণ অর্থ যাত্রীদের ফেরত দেবে।



