Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বী জেলায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Uttar Pradesh)। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি এলপিজি গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার জাতীয় সড়কের একটি টোল প্লাজায় সজোরে ধাক্কা মারার পর মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে টোল প্লাজা, আশপাশের যানবাহন এবং বিস্তীর্ণ এলাকায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন।

ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়ল মৃত্যুর বিভীষিকা
ঘটনার একটি ২৪ সেকেন্ডের ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এলপিজি গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারটি দ্রুতগতিতে টোল প্লাজার দিকে এগিয়ে আসছে। টোল বুথের কাছাকাছি পৌঁছতেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর ট্যাঙ্কারটি সরাসরি টোল প্লাজার কাঠামোয় ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের বিশাল গোলা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের মানুষ আতঙ্কে ছুটতে শুরু করেন।
দেখা গিয়েছে আগুনের লেলিহান শিখা (Uttar Pradesh)
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর আগুনের শিখা এতটাই উঁচুতে উঠেছিল যে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। এলপিজি গ্যাস দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রাম এবং বাজার এলাকাতেও।

কানপুর থেকে প্রতাপগড় যাচ্ছিল ট্যাঙ্কার (Uttar Pradesh)
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত এলপিজি ট্যাঙ্কারটি কানপুর থেকে প্রতাপগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ২৬ জুন ভোর প্রায় সাড়ে ৬টা নাগাদ কৌশাম্বীর টোল প্লাজার কাছে পৌঁছলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অতিরিক্ত গতির কারণে চালক ট্যাঙ্কারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তবে প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু চালক ও টোল কর্মীর (Uttar Pradesh)
ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে ট্যাঙ্কারের চালক ৪০ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র দুবে এবং টোল প্লাজার কর্মী অলোক সিং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তাঁদের দেহ কার্যত পুড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হলেও বিস্ফোরণের ভয়াবহতার কারণে প্রথম দিকে উদ্ধারকর্মীদের কাজ করতে যথেষ্ট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

প্রাণ হারালেন আরও তিন জন (Uttar Pradesh)
বিস্ফোরণে টোল প্লাজার একাধিক কর্মী গুরুতর দগ্ধ হন। তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়। ফলে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুড়ে ছাই ১৬টি মোটরসাইকেল ও একাধিক গাড়ি
বিস্ফোরণের পর আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে টোল প্লাজার কাছে থাকা বহু যানবাহন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ১৬টি মোটরসাইকেল এবং দুটি চারচাকা গাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। টোল প্লাজার অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বুথগুলির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
দমকল ও পুলিশের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। একাধিক দমকল ইঞ্জিন দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুরু হয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং তদন্তের কাজ।

আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ট্যাঙ্কারের প্রযুক্তিগত অবস্থা, চালকের অভিজ্ঞতা, গাড়ির গতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি বহনকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তাই এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এল।



