Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বড়দিনের আগেই দেশবাসীকে এক ঐতিহাসিক (ISRO) সাফল্যের উপহার দিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO। বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের মাটি থেকে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ BlueBird Block-2। এই অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হয় ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট LVM3, যা ‘বাহুবলী’ নামেই বেশি পরিচিত।
উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় (ISRO)
ISRO সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে উৎক্ষেপণের (ISRO) নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট। তবে উৎক্ষেপণের ঠিক আগে মহাকাশে থাকা বিপুল পরিমাণ জঞ্জাল এবং অন্য স্যাটেলাইটের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উৎক্ষেপণ ৯০ সেকেন্ড পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে নিখুঁতভাবে মহাকাশে পাড়ি দেয় ‘বাহুবলী’ LVM3 রকেট।
অভিযানের মূল লক্ষ্য (ISRO)
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকার সংস্থা (ISRO) AST SpaceMobile-এর তৈরি অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট BlueBird Block-2-কে লো আর্থ অরবিটে স্থাপন করা। প্রায় ৬ হাজার ১০০ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটটিই ভারতের রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত সবচেয়ে ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ। ISRO-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানান, “ভারতের মাটি থেকে এর আগে এত ভারী স্যাটেলাইট কখনও উৎক্ষেপণ হয়নি। এই সাফল্য আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বড় প্রমাণ।”

এই মিশনের নাম
BlueBird Block-2 স্যাটেলাইটটি তৈরি করা হয়েছে ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। এই স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, মহাকাশ থেকেই সরাসরি সাধারণ স্মার্টফোনে 4G ও 5G সেলুলার ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা। এর জন্য Starlink বা OneWeb-এর মতো আলাদা গ্রাউন্ড টার্মিনালের প্রয়োজন হবে না। এই স্যাটেলাইটে ব্যবহৃত হয়েছে বিশালাকার Phased Array Antenna, যার আয়তন প্রায় ২ হাজার ২০০ বর্গমিটার—লো আর্থ অরবিটে যা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বলে দাবি করা হচ্ছে। আগের প্রজন্মের BlueBird 1 থেকে 5 স্যাটেলাইটের তুলনায় এই নতুন উপগ্রহটি প্রায় ৩.৫ গুণ বড় এবং এর ডেটা ধারণ ও পরিবহণ ক্ষমতা প্রায় ১০ গুণ বেশি।
আরও পড়ুন: Assam Eviction Clash: অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ঘিরে সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র পশ্চিম কার্বি আংলং, মৃত ২
এই মিশনের নাম LVM3-M6। LVM3-M6 হল LVM3-এর ষষ্ঠ অপারেশনাল ফ্লাইট এবং ব্লুবার্ড ব্লক-২ মহাকাশযান উৎক্ষেপণের তৃতীয় বাণিজ্যিক মিশন।। এর আগেও এই রকেট চন্দ্রযান-৩ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মিশনে শতভাগ সাফল্যের নজির গড়েছে। প্রায় ৪৩.৫ মিটার উঁচু এবং ৬৪০ টন ওজনের এই রকেট ভারী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। ISRO জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে শ্রীহরিকোটার আকাশের উপর দিয়ে হাজার হাজার সক্রিয় স্যাটেলাইট ঘুরছে। এর সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহাকাশ জঞ্জাল। ফলে প্রতিটি উৎক্ষেপণের আগে সম্ভাব্য ‘কনজাংশন’ বা সংঘর্ষের ঝুঁকি খতিয়ে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কারণেই শেষ মুহূর্তে সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি অনুমোদন মেলেনি
অন্যদিকে, AST SpaceMobile জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬০টি এমন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক কার্যকর হলে বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চল—যেখানে এখনও মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছয়নি—সেখানেও ৫জি মানের ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতে এখনও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য সরকারি অনুমোদন মেলেনি। ফলে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভবিষ্যতে নীতি, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরোর প্রশংসা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে ইসরোর প্রশংসা করে জানিয়েছেন, ”ভারতের যুবসমাজের শক্তি ও প্রতিভার ওপর ভর করেই দেশের মহাকাশ কর্মসূচি দিন দিন আরও উন্নত ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, LVM3 রকেটের নির্ভরযোগ্য ভারী-উত্তোলন সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে গগনযানের মতো ভবিষ্যৎ মানব মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি আরও মজবুত হচ্ছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার পরিসর বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অংশীদারিত্ব আরও গভীর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর কথায়, এই বর্ধিত সক্ষমতা ও স্বনির্ভরতার বিকাশ আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করছে”।
সব মিলিয়ে, এই উৎক্ষেপণ শুধু ISRO-র জন্য নয়, আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল বলে মত প্রযুক্তিবিদদের। মহাকাশ থেকেই সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট—এই স্বপ্ন বাস্তব হলে আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় বিপ্লব ঘটতে পারে।


