Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজোর রেশ কোনো প্রকার কাটে না, একের পর এক উৎসব লেগে আছে (Jagaddhatri Puja)। কথায় আছে বাঙ্গালীর বারো মাসে তেরো পার্বন। জগদ্ধাত্রী পুজোর নাম উঠলেই প্রথমেই মনে পড়ে চন্দননগরের কথা। গঙ্গাপাড়ের এই শহর আলোকসজ্জা, বিশাল প্রতিমা আর শিল্পকলা–সজ্জার জন্য আজ সারা দেশে সুপরিচিত। তবে অনেকেই জানেন না, এই পুজোর সূচনা হয়েছিল চন্দননগরে নয়, কৃষ্ণনগরে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে।
দেবীর স্বপ্নাদেশ (Jagaddhatri Puja)
ইতিহাস বলছে, ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সময় মিরকাশিম ব্রিটিশদের সহায়ক রাজাদের বন্দি করেছিলেন। সেই তালিকায় ছিলেন কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এবং তাঁর পুত্র। মুক্তি পাওয়ার পর রাজা দেখেন দুর্গাপুজো শেষ হয়ে গেছে। মন খারাপ হয়ে যায় তাঁর। কথিত আছে, সেই সময় রাজা স্বপ্নে দেবীর দর্শন পান। দেবী তাঁকে জগদ্ধাত্রী রূপে পুজো করার নির্দেশ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো।
দেবীর জন্ম ও পুরাণকথা (Jagaddhatri Puja)
হিন্দু পুরাণে জগদ্ধাত্রী সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। তবে কিছু মত অনুসারে জানা যায়, ত্রেতা যুগের শুরুতে করীন্দ্রাসুর নামে এক হস্তীরূপী অসুরকে বধ করার জন্য দুর্গার মতোই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শক্তি থেকে দেবী জগদ্ধাত্রীর উদ্ভব হয়। দেবীর চারটি হাত উপরের দু’টিতে চক্র ও শঙ্খ, নিচের দু’টিতে ধনুক ও পঞ্চবাণ। অপর মতে, মহিষাসুর বধের পর অগ্নি, পবন, বরুণ ও চন্দ্র অহংকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের এই অহংকার বিনাশের জন্যই দেবী জগদ্ধাত্রীর আবির্ভাব। এখানে হস্তীকে ‘অহংকার’-এর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়, আর দেবী সেই হস্তীকেই বধ করেন। শাস্ত্রমতে, কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে পালিত হয় এই পুজো।
কৃষ্ণনগর থেকে চন্দননগর (Jagaddhatri Puja)
ধারণা করা হয়, ১৭৬৩-৬৪ সালে জলঙ্গীর পাড়ে রাজবাড়িতে প্রথম এই পুজো শুরু হয়। পরবর্তীকালে রাজবাড়ির সীমা ছাড়িয়ে কৃষ্ণনগর শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই আরাধনা। অল্পদিন পরেই চন্দননগরেও শুরু হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। ইতিহাসবিদদের মতে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন ফরাসি দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ রায়। তাঁর হাতেই চন্দননগরে এই পুজো শুরু হয়। আবার অন্য এক সূত্র বলছে, রাজার দেওয়ান দাতারামের বিধবা কন্যা ভদ্রেশ্বরের তেঁতুলতলায় রাজার অনুমতি নিয়ে পুজো শুরু করেছিলেন যা পরে সর্বজনীন রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: Jisshu Sengupta: অহঙ্কার বাড়ছে যিশুর! ভিড়ের মাঝে বিড়ম্বনায় অভিনেতা
আলোর শহর চন্দননগর
যদিও জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা কৃষ্ণনগরে, জনপ্রিয়তায় ও জাঁকজমকে আজ চন্দননগর অনেক এগিয়ে। এখানকার বিখ্যাত আলোকসজ্জা চন্দননগরের নিজস্ব লাইট শিল্প আজ বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছে। পুজোর সময় গোটা শহর যেন আলোয় মোড়া এক শিল্পক্যানভাসে পরিণত হয়। সুবিশাল প্রতিমা, সৃজনশীল মণ্ডপ, আর গঙ্গাপাড়ের বাতাসে ভেসে থাকা ঢাকের শব্দ সব মিলিয়ে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।



