Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের প্রায় ১৫ বছর পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান(Japan)। অনেকের মতে, দেশটির জ্বালানি নীতিতে এটি একটি বড় মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ফের চালুর পদক্ষেপ (Japan)
সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সম্প্রতি নিইগাতা প্রদেশে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালুর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা ও জ্বালানি সংকটের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমত অবশ্য ভাগ হয়ে গিয়েছে।
আস্থা ভোট পাশ
নিইগাতা প্রাদেশিক পরিষদ গভর্নর হিদেও হানাজুমির উপর আস্থা ভোট পাশ করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর পথে শেষ বড় বাধা হতে পারে এই বাধা। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) পরিচালিত এই কেন্দ্রটি ফুকুশিমার দায়চি পারমাণবিক কেন্দ্রও পরিচালনা করত।
২০২৬-এর শুরুতেই চালু হতে পারে একটি ইউনিট (Japan)
ভোটের পর গভর্নর হানাজুমি বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তবে এখানেই শেষ নয়।” তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ দূর করতে কাজ চলবে। সাতটি রিয়্যাক্টরের এই কেন্দ্রে প্রথম ধাপে ১.৩৬ গিগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই চালু হতে পারে।
স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ (Japan)
তবে সরকারি সমর্থন সত্ত্বেও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে। প্রায় ৩০০ জন বিক্ষোভকারী প্রাদেশিক পরিষদের বাইরে জড়ো হয়ে ‘নো নিউকস’ স্লোগান দেন। নিইগাতা শহরের ৭৭ বছর বয়সী কেনিচিরো ইশিয়ামা বলেন, “যদি এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী আমরা হব।” এই উদ্বেগ জাপানের সামগ্রিক জনমতের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক বাসিন্দাই মনে করেন না যে নিরাপদ পুনরারম্ভের শর্ত পূরণ হয়েছে, এবং টেপকোর ওপর আস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পারমাণবিক শক্তির উপর জোর প্রধানমন্ত্রীর (Japan)
অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পারমাণবিক শক্তি জরুরি। নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বিদ্যুৎ চাহিদা ও এআই ডেটা সেন্টারের প্রসারের কথা মাথায় রেখে পারমাণবিক শক্তির উপর জোর দিচ্ছেন। সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির অংশ দ্বিগুণ করে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।



