Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাশ্মীরের শোপিয়ানের একটি আপেল বাগানে এপ্রিলের শেষ দিকে হাঁটলেই বোঝা যায় কী ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গাছে গাছে ফুটে থাকা গোলাপি-সাদা ফুলগুলো যেমন মোহময়, তেমনই মুহূর্তে ঝড়ে ঝরে পড়ার মতই হালকা। আর ঠিক সেটাই এখন নিয়মিত ঘটছে(Kashmir Apple)।

শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট (Kashmir Apple)
শোপিয়ান, কুলগাম থেকে বান্দিপোরা সব জায়গায় একই ছবি। হঠাৎ আকাশ কালো, আধঘণ্টার তাণ্ডবে বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টি মিলে ফুল মাটিতে ঝরিয়ে দেয়, ফল ধরার আগেই ফসল শেষ। গবেষণা বলছে, এমন শিলাবৃষ্টিতে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে পুরো ফসল নষ্ট হয়।

সাত লক্ষ পরিবারের জীবিকার ভিত্তি
কাশ্মীরের আপেল শিল্প শুধু অর্থনীতির অংশ নয়, প্রায় সাত লক্ষ পরিবারের জীবিকার ভিত্তি। বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার এই শিল্প ভেঙে পড়লে প্রভাব পড়ে পুরো সমাজে।

সমস্যার মূলে আবহাওয়ার বদল
সমস্যার মূলেই রয়েছে বদলে যাওয়া আবহাওয়া। আপেল গাছের জন্য দীর্ঘ ঠান্ডা শীত জরুরি, যা এখন আর স্থির নয়। গত একশ বছরে কাশ্মীরের তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ‘চিলাই কালান’-এর তীব্র শীতও এখন অনিয়মিত। ফলে গাছে অকাল ও অসম ফুল ফোটে, যা পরবর্তী আবহাওয়ার ধাক্কা সামলাতে পারে না।

বৃষ্টির ঘাটতি
এরপর আসে বৃষ্টির অভাব। ২০২৪ সালে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ৩৫ শতাংশ, শোপিয়ানে তা ৮১ শতাংশ। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, ফল ঝরে যায়।
শিলাবৃষ্টির সংখ্যা বাড়ছে (Kashmir Apple)
অন্যদিকে, শিলাবৃষ্টির সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৩ সালে ২০০-র বেশি এমন ঘটনার নথি রয়েছে। এতে শুধু ফুল নয়, গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাড়ে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ।

আরও পড়ুন: Amazon Starlink: ব্যবসা শক্তিশালী করার উদ্যোগ: গ্লোবালস্টার অধিগ্রহণের ঘোষণা অ্যামাজনের
অনিশ্চয়তার মুখে বাগান (Kashmir Apple)
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা এই বাগান সংস্কৃতি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন শুধু ফসল নয়, মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককেও দ্রুত ভেঙে দিচ্ছে।



