Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুক্রবার সকালে দেশের উত্তরাংশে (Kashmir Snowfall Crisis) একেবারে ভিন্ন দুই রকম আবহাওয়ার ছবি ধরা পড়ল। একদিকে প্রবল তুষারপাতে কার্যত বিপর্যস্ত কাশ্মীর উপত্যকা, অন্যদিকে শীতের মাঝেই বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ে ভিজে গেল দিল্লি এবং এনসিআরের বিস্তীর্ণ এলাকা। সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে এই আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন উত্তর ভারতের স্বাভাবিক জনজীবনে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
দিল্লিতে দফায় দফায় বৃষ্টি (Kashmir Snowfall Crisis)
দিল্লিতে ভোর থেকেই মেঘলা আকাশের সঙ্গে শুরু হয় (Kashmir Snowfall Crisis) দফায় দফায় বৃষ্টি। সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ায় সকালবেলা অফিসযাত্রী ও স্কুলপড়ুয়াদের ভোগান্তি বাড়ে। আবহাওয়া দফতর জানায়, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট নাগাদ অন্তত আরও কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিল্লি-এনসিআর ছাড়াও পঞ্জাব ও হরিয়ানার সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। এই বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা দ্রুত নামতে শুরু করবে বলেও পূর্বাভাস। বৃহস্পতিবার যেখানে দিল্লিতে জানুয়ারির অন্যতম উষ্ণ দিন হিসেবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি ছুঁয়েছিল, শুক্রবার তা নেমে প্রায় ১৯ ডিগ্রিতে পৌঁছতে পারে। রাতের দিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা।

কাশ্মীর উপত্যকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন (Kashmir Snowfall Crisis)
অন্যদিকে কাশ্মীর উপত্যকায় পরিস্থিতি আরও (Kashmir Snowfall Crisis) কঠিন। ভারী তুষারপাতের ফলে শ্রীনগর বিমানবন্দরে উড়ান ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। রানওয়েতে জমে থাকা বরফের কারণে একাধিক বিমান বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যাত্রীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, বিমান ধরার আগে অবশ্যই ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নিতে। বরফ পরিষ্কারের কাজ দ্রুতগতিতে চললেও আবহাওয়া অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত।

সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত
তুষারপাতের জেরে কেবল বিমান চলাচলই নয়, সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জম্মু–শ্রীনগর জাতীয় সড়ক নব্যুগ টানেলের কাছে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুঘল রোড ও সিন্থান রোডের একাধিক অংশে যান চলাচল থমকে গিয়েছে। গুলমার্গ, কুপওয়াড়া, বারামুলা ও শোপিয়ানের উঁচু এলাকাগুলিতে নতুন করে তুষার জমেছে। বৃহস্পতিবার রাতেই প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ে, সতর্কতার কারণে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ পরিষেবাও সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়।
আরও পড়ুন: Sunita Williams: মহাকাশ যাত্রার ইতি, অবসর নিলেন সুনীতা উইলিয়ামস
এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব উত্তরাখণ্ডেও পড়তে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, দীর্ঘ শুষ্কতার পর রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও তুষারপাত হতে পারে। কিছু এলাকায় ‘অরেঞ্জ’ এবং কোথাও ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। এতে যেমন শীত বাড়বে, তেমনই দাবানলের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।


