Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি বিজেপি শাসিত ওড়িশা সরকার গুটখা, তামাক এবং তামাকজাত যাবতীয় খাদ্যপণ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে (Tobacco Ban)। শুধু প্রকাশ্যে বিক্রি নয়, এবার থেকে এই ধরনের পণ্যের উৎপাদন, মজুত এবং বিক্রি সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আপাতদৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে হলেও, এর মধ্যেই উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। বিশেষত, বিড়ি ও সিগারেটকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

পুরনো নিষেধাজ্ঞা, নতুন কড়াকড়ি (Tobacco Ban)
উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকেই ওড়িশায় প্রকাশ্যে গুটখা ও তামাকজাত পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল (Tobacco Ban)। কিন্তু বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায়নি। কারণ আইনের ফাঁক গলে আলাদাভাবে মশলা ও জর্দা উৎপাদন ও বিক্রি চলছিল। নেশাগ্রস্তরা এই দুই উপাদান আলাদাভাবে কিনে নিজেরাই গুটখার বিকল্প তৈরি করছিলেন। ফলে কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তার বাস্তব প্রভাব ছিল প্রায় শূন্য। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই মোহনচরণ মাঝির নেতৃত্বাধীন ওড়িশা সরকার এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গুটখা, পানমশলা বা অন্য কোনও খাদ্যপণ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাক ব্যবহার করা যাবে না। নিকোটিনসমৃদ্ধ কোনও খাবারই প্রকাশ্যে বিক্রি করা যাবে না। এমনকি মশলা ও জর্দা আলাদাভাবে বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কতটা আন্তরিক? (Tobacco Ban)
সরকারের যুক্তি অনুযায়ী, গুটখা ও তামাকজাত খাদ্যপণ্য মুখগহ্বরের ক্যানসারসহ একাধিক মারাত্মক রোগের জন্য দায়ী। ভারতের মতো দেশে যেখানে তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়, সেখানে এই ধরনের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে জনস্বাস্থ্যের পক্ষে জরুরি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকও ২০১১ সালেই তামাকযুক্ত পানমশলা ও গুটখা নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই পরামর্শ বাস্তবায়নের পথে ওড়িশার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে এক অর্থে ইতিবাচক বলাই যায়।

কিন্তু বিড়ি-সিগারেট কেন ছাড়? (Tobacco Ban)
এখানেই শুরু হচ্ছে মূল বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, যদি তামাক মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, তবে শুধু খাদ্যপণ্যে ব্যবহৃত তামাক নিষিদ্ধ করে বিড়ি ও সিগারেটকে কেন ছেড়ে দেওয়া হল? নিকোটিন তো সিগারেট ও বিড়িতেও রয়েছে, বরং তার ক্ষতিকর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই আরও ভয়াবহ। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে একটি দ্বিচারিতার ছবি তুলে ধরে। একদিকে জনস্বাস্থ্যের কথা বলে গুটখা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, অন্যদিকে একই তামাক দিয়ে তৈরি বিড়ি-সিগারেট দিব্যি বৈধ থাকছে।
আরও পড়ুন: Amit Shah: ফের রাজ্য সফরে অমিত শাহ, কোথায় সভা করবেন?
আসল কারণ কি?
এই দ্বিচারিতার ব্যাখ্যা খুঁজতে গেলে চলে আসছে রাজস্বের প্রশ্ন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সিগারেটের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করেছে। এর ফলে রাজ্যগুলির কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওড়িশার মতো রাজ্য সেই বিপুল রাজস্বের উৎস হাতছাড়া করতে চায়নি বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। অর্থাৎ, যেখানে রাজস্ব কম সেই গুটখা ও পানমশলার উপর কড়াকড়ি, আর যেখানে রাজস্ব বেশি সেখানে নীরবতা। এই বাস্তবতা রাজনীতির পরিচিত ছবি হলেও, জনস্বাস্থ্য নীতির ক্ষেত্রে তা গভীরভাবে হতাশাজনক।



