Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্ম যখন মানুষকে ভাগ না করে বরং একত্র করে, তখন তা হয়ে ওঠে মানবতার উৎসব। এমনই এক উৎসব আয়োজিত হল দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জে। শনিবার টালিগঞ্জে ম্যুর এভিনিউ বুদ্ধ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত হয় ১৭তম দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব ও সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান (Kathin Chibar Dan)। সকাল থেকেই এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল ভক্তদের বিপুল উৎসাহ।
কেমন হয় এই ‘ত্রি-চীবর’ দান? (Kathin Chibar Dan)
চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী আশ্বিন মাসে প্রতি বছর এই চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বৌদ্ধ ধর্মমতে, এই দান অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহৎ কাজ। এই অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিশেষ পোশাক, ‘ত্রি-চীবর’ দান করা হয়। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। তার শেষ পর্যায়ে কঠিন চীবর তৈরি ও দান (Kathin Chibar Dan) করা হয়। তুলো সংগ্রহ, সুতো বানানো, বস্ত্র বোনা—এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চীবর তৈরি হয়, এবং তা ভিক্ষুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে।
আরও পড়ুন:Kali Puja: কালীপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কুমোরটুলি, টানা বৃষ্টিতে চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা
এবারের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং বিদেশ থেকেও বহু বৌদ্ধ ভিক্ষু ও সন্ন্যাসী উপস্থিত ছিলেন। ভক্তরা আন্তরিকভাবে তাঁদের হাতে ত্রি-চীবর দান করেন। ধর্মীয় আচার ছাড়াও ছিল আরও একটি বিশেষ পর্ব। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া। সংস্থার তরফে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহার ও সন্মাননাপত্র।
শান্তি চীবর পরিক্রমা পদযাত্রা
অনুষ্ঠান উপলক্ষে এলাকার মধ্যে এক শান্তি চীবর পরিক্রমা পদযাত্রার আয়োজনও করা হয়। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও এই পদযাত্রায় অংশ নেন। নেতৃত্ব দেন সম্বোধি বুদ্ধ বিহারের পরিচালক অরুণজ্যোতি ভিক্ষু। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে আমরা সবাই কোনও না কোনও ভাবে উদ্বেগে, দুঃখে আছি। গৌতম বুদ্ধের দেখানো শান্তি, সহানুভূতি ও সহমর্মিতার পথই আমাদের মুক্তি দিতে পারে। সেই পথেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

আরও পড়ুন:Malaria : কলকাতায় ম্যালেরিয়ার হানা কেন হঠাৎ বাড়ছে?
এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার যেমন ছিল, তেমনই ছিল সামাজিক দায়িত্বের ছাপ। ধর্ম এখানে কেবল প্রার্থনা নয়, বরং ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মানবিকতা প্রকাশের এক সুযোগ। ছোট-বড় সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বোঝালেন—মানুষের পাশে থাকা, ভালোবাসা দেওয়াই আসল ধর্ম। টালিগঞ্জের এই চীবর দানোৎসব (Kathin Chibar Dan) প্রমাণ করল, আজকের সমাজে এখনও মানবিকতা বেঁচে আছে।


