Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা হাইকোর্টের(Calcutta HC)ডিভিশন বেঞ্চেও ধাক্কা SSC-র অযোগ্যদের। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরীক্ষায় বসার আবেদন জানিয়ে আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গত শনিবার এসএসসি(SSC) প্রকাশিত অযোগ্যদের তালিকায় নাম থাকা প্রায় ৩৫০ জন দাগি বা অযোগ্য। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল অযোগ্যদের তালিকায় নাম থাকা মামলাকারীরা। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চও অযোগ্যদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরীক্ষায় বসার আবেদন খারিজ করে দিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ।
অযোগ্যদের পাশাপাশি SSC-কে তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতির(Calcutta HC)
এদিন মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে অযোগ্যদের পাশাপাশি স্কুল সার্ভিস কমিশনকেও তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী। কমিশনার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বিচারপতি চক্রবর্তী প্রশ্ন করেন, ‘যেখানে এত ছেলে-মেয়ের চাকরি চলে যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার বলে দিচ্ছে যে অযোগ্য বা দাগিদের কোনভাবেই পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া যাবে না, তারপরও কমিশন কী করে এঁদের অ্যাডমিট কার্ড দিয়ে দিল? তাহলে আপনাদের অফিসাররা কেন কাঠগড়ায় উঠবেন না? আপনাদের অফিসারদের কেন চাকরি যাবে না? আপনাদের অফিসাররা এত গুরুতর ভুল কী করে করেন? তারপরেও তাঁদের চাকরি কী করে যায় না?’
যোগ্য-অযোগ্য বাছাই সম্ভব হয়নি, মন্তব্য কল্যাণের(Calcutta HC)
তার উত্তরে নিজেদের অসহায়তা ও ভুল স্বীকার করে নিয়ে কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এত লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে কারা যোগ্য কারা অযোগ্য তা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অ্যাডমিট কার্ড দিতে হয়েছে। ভুল হয়ে গিয়েছে। আর না হলে সব দাবিদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়ে দিন।’ তা শুনে বিচারপতি চক্রবর্তী বলেন, ‘তাহলে এই মামলায় আমরা রেকর্ড করছি যে এসএসসি-এর কনসেন্ট নিয়ে আমরা পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিচ্ছি।’ তা শুনে কমিশনার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার আদালতকে জানিয়ে দেন, তাতে তাঁদের সায় নেই।
আরও পড়ুন: Kolkata Railway Metro: মেট্রো দেরির নেপথ্যে কী চলছে?
অযোগ্যদের পরীক্ষায় বসার আবেদন খারিজ
এরপর মামলাকারী অযোগ্য প্রার্থীদের আইনজীবীরা অতীতের একাধিক রায়ের পর্যবেক্ষণের উদাহরণ টেনে তাঁদের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করেন আদালতকে। কিন্তু আদালত তা শুনতে রাজি হয়নি। মামলাকারী আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘এখানে নতুন করে আর বোঝার কিছু নেই। যেখানে গোটা বিষয়টার উপর নজরদারি করছে সুপ্রিম কোর্ট, চিহ্নিত দাগি বা অযোগ্যদের নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত, সেখানে আবেদন করলেও নতুন করে কিছু করা বা ভাবা যায় না। সেই সুযোগ নেই। বোঝাতে হলে সুপ্রিম কোর্টে যান।’ তারপরই অযোগ্যদের পরীক্ষায় বসার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন তিনি।


