Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
তানিয়া রক্ষিত: যে মুহূর্তের অপেক্ষা ছিল সেই মুহূর্তই চোখের সামনে ধরা দিল (KHALID JAMIL)। যুবভারতীর সবুজ ঘাসে নেমে পড়ল ব্রাজিল ফুটবল দল। তবে মাহেন্দ্রক্ষণ এখনও আসেনি। তার জন্য আরও বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। ম্যাচের আগের দিন বিকেলে যুবভারতীর মাঠে হালকা অনুশীলন সারলেন ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোস, পেদ্রো, এন্ড্রিকরা। ডাগ আউটে বসে দলের অনুশীলনে কড়া নজর রাখলেন কোচ আনসেলোত্তি। এদিন সকালে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারল ভারতীয় দলও। খালিদ জামিলের ছেলেদের মূল মন্ত্র এখন ভয়ডরহীন ফুটবল। সেই পরিকল্পনাতেই ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ইতিহাস গড়তে চাইছেন আনোয়াররা।
ভরসা যোগাচ্ছে পানামা ম্যাচ (KHALID JAMIL)
পানামার বিরুদ্ধে ভারতের ১-১ ড্রয়ের পর থেকেই সমর্থকরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। কিন্তু শনিবার বিশালাকায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কি সাম্বা ঝড় ওলটপালট করে দেবে ভারতকে, নাকি পরাশক্তির মুখোমুখি হয়ে আবার জেগে উঠবে ভারতীয় ফুটবল নামক ‘ঘুমন্ত দৈত্য’? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আগে, সব ব্যবধান ঘুচিয়ে একসুতোয় গাঁথল দুই জগতের দুই ফুটবল মস্তিষ্ককে।
৯০ মিনিটের বাস্তব (KHALID JAMIL)
ভৌগোলিক দূরত্ব আকাশছোঁয়া হলেও ভারতের ঘরে ঘরে ব্রাজিল এক আবেগ। পেলে, জিকো, রোমারিও, বেবেতো, রোনাল্ডিনহো, রোনাল্ডোরা কবেই এ দেশের ড্রয়িং রুমে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। যদিও ব্রাজিলের সিনিয়র দল আগে কখনও ভারতের বিরুদ্ধে খেলেনি, তবু এই ভালোবাসা অনুভব করেছেন অ্যানচেলোত্তিও। তিনি বললেন, “জাতীয় দলের সঙ্গে এখানে আসা আমাদের জন্য সম্মানের। আমরা জানি, এই দেশ ব্রাজিল ফুটবলকে কতটা ভালোবাসে।” পিএসজি ডিফেন্ডার মারকুইনহোসও এই সফরকে ‘সোনালি সুযোগ’ ও ‘বড় অনুপ্রেরণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে খালিদ জামিলের কাজ হল ৯০ মিনিটের জন্য সেই আবেগের প্রাচীর ভেঙে দেওয়া। প্রতিপক্ষকে শ্রদ্ধা জানিয়ে খালিদ বলেন, “ওরা সেরা দল। সবাই জানে ওরা সেরাদের সেরা।” কিন্তু বিনয়ের আড়ালেও ছিল ম্যাচ নিয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। হলুদ-সবুজ জার্সিধারীদের আক্রমণের ঝড় সামলে পাল্টা আক্রমণ শানানোই এখন ভারতের মূল লক্ষ্য।
মাথা ঠান্ডা রাখার চ্যালেঞ্জ (KHALID JAMIL)
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল যেখানে পঞ্চম স্থানে, ভারত সেখানে ১৩৮তম (KHALID JAMIL)। শক্তির এই বিশাল ব্যবধান স্পষ্ট। ভারতীয় ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে বললেন, “সবাই জানে ব্রাজিল কীভাবে খেলে। আমাদের কাজ হল মাঠে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, শান্ত থাকা এবং চাপটা সামলানো।”
আরও পড়ুন: Marquinhos: ভারতীয় সমর্থকদের ফুটবল-আবেগে অভিভূত মারকুইনহোস
দুই ডাগআউটের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে, মাঠের প্রতিটি মুভের হিসাব মিলবে স্কোরবোর্ডে। তবে ম্যাচের আগের দিন শুক্রবারের যুবভারতী দেখেছিল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। ফুটবলের এক মহীরুহের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ভারতের প্রতিনিধি। কোনো স্বীকৃতি পাওয়ার তাড়নায় নয়, বরং বিশ্বের সেরা দলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার প্রস্তুতি নিয়ে।



