Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Kiran Bedi)। কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভের বিকল্প স্থান হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং শাহদারার সিবিডি গ্রাউন্ড চিহ্নিত করার পরই এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সরব হয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কিরণ বেদি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সেই মতপ্রকাশের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো ও নির্দিষ্ট জায়গা থাকা প্রয়োজন।
‘যন্তর মন্তর ছিল ভুল সিদ্ধান্ত’ (Kiran Bedi)
‘এক্স’-এ দেওয়া পোস্টে কিরণ বেদি বলেন, দিল্লিতে পুলিশি দায়িত্ব পালনের সময় তিনি প্রতিবাদস্থলের পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, একসময় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও তিন মূর্তি মার্গ থেকে প্রতিবাদ ধীরে ধীরে লুটিয়েন্স দিল্লির বিভিন্ন রাস্তা, ইন্ডিয়া গেট এবং পরবর্তীতে যন্তর মন্তরে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু সরু রাস্তা, সংবেদনশীল সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দপ্তরের সান্নিধ্যের কারণে যন্তর মন্তর প্রতিবাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা নয় বলেই তাঁর মত।
কেন রামলীলা ময়দানকে সমর্থন? (Kiran Bedi)
বেদির যুক্তি, প্রতিবাদ এমন জায়গায় হওয়া উচিত যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত না হয়। যন্তর মন্তর কনট প্লেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে বড় জমায়েত হলে যান চলাচল, নিরাপত্তা এবং জনজীবনে প্রভাব পড়তে পারে। সেই তুলনায় রামলীলা ময়দানের মতো নির্দিষ্ট ও অপেক্ষাকৃত বড় জায়গা বিক্ষোভ পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর বলে মনে করেন তিনি।
নিরাপত্তায় নতুন পদ্ধতির পক্ষে বেদি (Kiran Bedi)
এর আগেও নিট পরীক্ষা নিয়ে বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে জমায়েত না করে রামলীলা ময়দানে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন বেদি। তাঁর মতে, সংসদ ভবনের আশপাশের সংবেদনশীল এলাকা থেকে প্রতিবাদ দূরে রাখা জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
ভিড় নিয়ন্ত্রণেও তিনি তুলনামূলক সংযত পদ্ধতির কথা বলেছেন। প্রথম সারিতে সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক ও মহিলা পুলিশকর্মীদের রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। দাঙ্গা-বিরোধী পুলিশকে সরাসরি সামনে না এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ‘শেষ উপায়’ হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে তাঁর মত।
আরও পড়ুন: CJP Protest: ভারতের CJP আন্দোলনে বাংলাদেশের মদত? সারজিসের সমর্থন, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের
প্রতিবাদের অধিকার বনাম জননিরাপত্তা
কিরণ বেদির বক্তব্যের মূল সুর, প্রতিবাদের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেই তার জন্য পরিকল্পিত স্থান নির্ধারণ করা। তাঁর মতে, একটি শহরে গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট খোলা জায়গা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে সেই জায়গার পরিকল্পনায় নগরবিদ, প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। যন্তর মন্তর থেকে রামলীলা ময়দানে প্রতিবাদের সম্ভাব্য স্থানান্তর তাই শুধু জায়গা বদলের বিষয় নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, জননিরাপত্তা এবং নগর ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে।



