Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আলোয় ভরা দীপাবলির শহর কি (Kolkata Air Pollution) এবার আচ্ছন্ন হল ধোঁয়া আর তীব্র শব্দে? গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া কালীপুজোর আনন্দে, অনেক জায়গায় যেন লাগামছাড়া উল্লাসের চেহারা নিয়েছে উৎসব। বেআইনি শব্দবাজির অবাধ ব্যবহারে শহরের বহু অংশ রীতিমতো কেঁপে উঠেছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বায়ুদূষণও। ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে-উৎসব মানেই কি আইন ভেঙে উদ্যাপন? আর সে উদ্যাপন যদি অন্যের ক্ষতির কারণ হয়, তবে সেটাই কি সত্যিকারের উৎসব?
কলকাতার আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে ছিল (Kolkata Air Pollution)
দুই দিন ধরেই কলকাতার আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে (Kolkata Air Pollution) ছিল। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মৌন ও জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে শব্দের মাত্রা যথাক্রমে ৪০ ও ৪৫ ডেসিবেল থাকার কথা। বাস্তবে দেখা গেল, সেই মাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিগুণ বা তারও বেশি। ট্যাংরা, কালিকাপুর, বালিগঞ্জ, লেকটাউন, যাদবপুর- কোথাও কোথাও শব্দের মাত্রা পৌঁছেছে ৭৮ ডেসিবেল পর্যন্ত।
দূষণ ছড়িয়েছে বাতাসেও (Kolkata Air Pollution)
শুধু শব্দ নয়, দূষণ ছড়িয়েছে (Kolkata Air Pollution) বাতাসেও। পিএম ২.৫-এর হিসাবে, বালিগঞ্জে রাত ১১টার সময় সূচক ছিল ১৬৯, যাদবপুরে ২০৪, আর ভিক্টোরিয়াতে ২৫৯- যা ‘খারাপ’ পর্যায়ে পড়ে। পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম মূলত ক্ষুদ্র ধূলিকণা, যার মধ্যে থাকে ব্ল্যাক কার্বন ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ। এটি শ্বাসযন্ত্র ও হৃদরোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রায় দূষণ শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে পথপ্রাণীরা, যারা ঘরের সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত।
পুলিশের ভূমিকা
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা দাবি করেছেন, অন্য মেট্রো শহরের তুলনায় কলকাতায় দূষণের মাত্রা কম এবং আগের বছরের তুলনায় এবারে আইনভাঙার ঘটনা কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, শব্দবাজি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেআইনি বাজি, গ্রেফতার ও জরিমানাও করা হয়েছে বহুজনকে।
আরও পড়ুন: Donald Trump: শুল্ক টানাপোড়েনের মাঝেও হোয়াইট হাউসে দীপাবলি উদযাপন
তবে পরিবেশবিদ থেকে সাধারণ নাগরিক- অনেকেই বলছেন, কেবল প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। দরকার সচেতনতার। দীপাবলি মানে শুধু আলো জ্বালানো নয়, আলোয় পথ দেখানোও। অথচ শব্দ আর ধোঁয়ার দাপটে সেই দীপের কোমল শিখাটাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
উৎসবের উল্লাসে যদি প্রতিবেশীর নিদ্রা ভেঙে যায়, শিশু আতঙ্কে কাঁদে, পশু-পাখি তটস্থ হয়- তবে প্রশ্ন ওঠে, এই উদ্যাপন কার? দীপাবলির আসল তাৎপর্য কি তাহলে দিনকে দিন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে না?


