Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও, দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শীতের দাপট উধাও (Kolkata Temperatures)। উল্টে নতুন করে তাপমাত্রার পারদ চড়তে শুরু করায় উধাও হয়েছে শীতের সেই পরিচিত আমেজ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন রাজ্যে জাঁকিয়ে শীত পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং সপ্তাহান্তে উষ্ণতা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে কমছে শীতের দাপট (Kolkata Temperatures)
কলকাতায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৫৩ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। যার ফলে ভোরের দিকে শীতের সামান্য আমেজ থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যত উধাও হয়ে যাচ্ছে। পরিষ্কার আকাশের কারণে রোদের তেজও অনুভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:Explore Kolkata: এই শীতে ভিড় নয়, শান্ত কলকাতাই কি হতে পারে আপনার গন্তব্য?
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতেও শীতের দাপট কমছে (Kolkata Temperatures)। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বা পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও, তা স্থায়ী হচ্ছে না। আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রার বড়সড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি আবহাওয়া দফতর। মূলত শুষ্ক আবহাওয়াই বজায় থাকবে। সকালের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়লে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস আপাতত নেই।
উত্তরবঙ্গের পূর্বাভাস
উত্তরবঙ্গে এখনও শীতের আমেজ কিছুটা বজায় রয়েছে। দার্জিলিং সহ পার্বত্য জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার বা আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৯ থেকে ১৩ ডিগ্রির আশেপাশে। মালদহ ও সংলগ্ন এলাকায় তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। তবে সেখানেও দিনের বেলা শীতের অনুভূতি আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে (Kolkata Temperatures)। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আগামী কয়েক দিন শুষ্ক আবহাওয়া ও হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন বাধা পাচ্ছে শীত? (Kolkata Temperatures)
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। জম্মু-কাশ্মীর সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরান সংলগ্ন এলাকাতেও একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভৌগোলিক সিস্টেমগুলির প্রভাবেই উত্তুরে হাওয়া রাজ্যে প্রবেশে বাধা পাচ্ছে, ফলে থমকে গেছে শীতের গতিপথ।
বাংলার চিত্রটা ভিন্ন হলেও, উত্তর ভারতের পাহাড়ি রাজ্যে কিন্তু তুষারপাতের প্রবল সম্ভাবনা। জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে বরফ পড়তে পারে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ঘন কুয়াশার চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিল্লি ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতেও কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


