Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: লাদাখকে পৃথক রাজ্যের (Ladakh Protest) মর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে ফের ফুঁসে উঠল লেহ। দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে বুধবার রাজপথে নামে বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ক্রমেই রূপ নেয় সহিংসতায়। সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন, আহত অন্তত ৭০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন জারি করেছে কার্ফু।
একাধিক দাবি (Ladakh Protest)
বিক্ষোভের মূলে রয়েছে একাধিক দাবি-লাদাখকে (Ladakh Protest) পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া, পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের গঠন, এবং লেহ ও কার্গিলের জন্য আলাদা লোকসভা আসনের দাবি। এই দাবিগুলিকে কেন্দ্র করেই গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বারবার অনশনেও বসেছেন তিনি, শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি জানানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বুধবারের হিংসার ঘটনায় তিনিও প্রকাশ করেছেন গভীর উদ্বেগ।
আন্দোলনের মোড় ঘোরাল হিংসা (Ladakh Protest)
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লেহ শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজনা (Ladakh Protest) বাড়তে থাকে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা বিজেপির পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেন। এমনকি পুলিশি গাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
সোনম ওয়াংচুকের প্রতিক্রিয়া
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ওয়াংচুক বলেন, “দীর্ঘদিনের ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এটা। তবে আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, সহিংসতা কোনও সমাধান নয়। রাজ্যের দাবিতে আমাদের লড়াই চলবে, কিন্তু তা হবে শান্তিপূর্ণ পথেই।” তিনি লাদাখের রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধেও সরব হন। তাঁর অভিযোগ, তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখাতে তারা ব্যর্থ।
আন্দোলনের পিছনে কারা?
বুধবারের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল লেহ অ্যাপেক্স বডির যুব শাখা। সংগঠনের চেয়ারম্যান থুপস্তান সোয়াং জানিয়েছেন, তাঁদের আন্দোলনের মূলত চারটি দাবি রয়েছে। তিনি বলেন, “এই আন্দোলনে আমাদের কিছু তরুণ প্রাণ হারিয়েছে। তাঁদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়, সে জন্য লাদাখবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
আরও পড়ুন: Delulu 101 : অপারেশন সিঁদুরের বিকৃত ইতিহাস পাকিস্তানের পাঠ্যবইয়ে! কী কী মিথ্যা তথ্য রয়েছে ?
কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক
প্রসঙ্গত, আগামী ৬ অক্টোবর লাদাখের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। তার আগেই এই বিক্ষোভ এবং তাতে হিংসার ছায়া, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।


