Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলমান নির্যাতন (Malda), ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও অস্থির পরিস্থিতির প্রতিবাদে কড়া সিদ্ধান্ত নিল মালদহের হোটেল ব্যবসায়ীরা। সীমান্তবর্তী এই জেলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হল হোটেলের দরজা। পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা থাকলেও মালদহ শহরের কোনও হোটেলে আর ঘর মিলবে না ওপার বাংলার নাগরিকদের। এই সিদ্ধান্ত কোনও সরকারি নির্দেশে নয়, বরং মালদহ জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কর্তারা।

কেন এই সিদ্ধান্ত? হোটেল মালিকদের যুক্তি (Malda)
মালদহ জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানান, “আমাদের সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউ কোনও নির্দেশ দেয়নি। আমরা পরিস্থিতি বিচার করে নিজেদের নিরাপত্তা এবং ওপারের নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” হোটেল মালিকদের মতে, বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের যে খবর প্রতিদিন সামনে আসছে, তা সভ্য সমাজকে নাড়া দিয়েছে। দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলি তাঁদের সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় করেছে।
জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা (Malda)
স্টেশন রোড এলাকার এক হোটেল মালিক সৌরভভদ্র রায় বলেন, “ওপারে গোলমাল চলছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে কেউ জঙ্গি পরিচয়ে হোটেলে উঠে বড়সড় নাশকতা ঘটিয়ে পালিয়ে গেলে তার দায় কে নেবে?” হোটেল মালিকদের বড় আশঙ্কা, জাল পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ, হোটেলে থেকে দেশের অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া, নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়িয়ে নাশকতার পরিকল্পনা, তাঁদের বক্তব্য, হোটেল মালিকদের পক্ষে জাল নথি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

মহদিপুর স্থলবন্দর ও যাতায়াতের বাস্তব চিত্র (Malda)
মালদহের ইংলিশবাজার থানার অধীন মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশ করেন। সাধারণত তাঁরা মালদহ শহরের বিভিন্ন হোটেলে ওঠেন এবং পরে ট্রেন বা সড়কপথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যান। যদিও সাম্প্রতিক অশান্তির কারণে এই সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবুও যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই কারণেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ (Malda)
হোটেল মালিকদের মতে, শুধু নিরাপত্তাই নয়, আরেকটি বড় আশঙ্কা সামাজিক অশান্তি। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের খবরের জেরে ভারতে এসে বাংলাদেশি নাগরিকরা আক্রান্ত হতে পারেন এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে মালদহ শহরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব সীমান্ত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
সীমান্তে কড়া নজরদারি, তবু উদ্বেগ কাটেনি (Malda)
বাংলাদেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবুও স্থানীয়দের দাবি, অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই প্রেক্ষিতেই মালদহের হোটেল ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: Weather Update: নতুন বছরে কি মিলবে শীত থেকে সাময়িক রেহাই?
প্রতিবাদ না নিরাপত্তা
মালদহের হোটেল মালিকদের এই সিদ্ধান্ত নিছক ব্যবসায়িক নয়, বরং একপ্রকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা বলেই মনে করছেন অনেকেই। একদিকে এটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ, অন্যদিকে নিজেদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার প্রয়াস।



