Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দু’দশক পর বাংলার ভোটমহলে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে সিঙ্গুরে (Mamata Banerjee)। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে সভা করেছেন, তবে শিল্প, বিনিয়োগ বা স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোনো বিষয় উল্লেখ করেননি। এই অবস্থায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে হতাশার আবহ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে, বুধবার সিঙ্গুর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন, সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং জনসাধারণের জন্য বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ (Mamata Banerjee)
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। বহুবার কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণের কারণে প্রকল্পটি বারবার আটকে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্য সরকারই এই উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজ্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে এবং ভোটের আগে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের উদ্বোধন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আকার ও উপকারভোগী (Mamata Banerjee)
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭টি ব্লক ঘাটাল, দাসপুর-১ ও ২, চন্দ্রকোনা-১ ও ২, কেশপুর এবং ডেবরা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক পাঁশকুড়া-১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক এ বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভাও উপকৃত হবে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক মেসেজ ও জনসভা (Mamata Banerjee)
রাজনীতিক মহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা প্রধানমন্ত্রী মোদির সভার জবাব হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সভা থেকে প্রায় ৪০ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন; তুলনায় মুখ্যমন্ত্রীর সভায় দুই লক্ষ লোকের উপস্থিতি টার্গেট রাখা হয়েছে। তাই বড় মাঠে জনসভা আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় রাজ্যের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অনুমোদনপত্র বিতরণ করা হবে লক্ষাধিক মানুষের হাতে।

আরও পড়ুন: Kolkata Metro: সাতসকালে ফের ব্লু লাইন মেট্রো পরিষেবায় হোঁচট
অর্থনীতির সম্ভাব্য ঘোষণাসমূহ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম এবং সিঙ্গুর অঞ্চলে শিল্প সংক্রান্ত বড় কোনো ঘোষণা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এই ঘোষণা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মধ্যে আশাবাদ বাড়াতে পারে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং জনসাধারণের জন্য সরকারি পরিষেবার উদ্বোধন ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সভার পর মুখ্যমন্ত্রী এই সভার মাধ্যমে নির্বাচনী জবাব দেবেন। স্থানীয় মানুষের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ভোটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।



