Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ প্রাকৃতিক (Mamata Banerjee) দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় রাজনীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন। তাঁর কথায়, “মানুষ যখন বিপদের মধ্যে রয়েছেন, তখন রাজনীতি করার সময় নয়, দায়িত্বের সঙ্গে পাশে দাঁড়ানোই আসল কর্তব্য।”
কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে চাপানউতোর (Mamata Banerjee)
সম্প্রতি নাগরাকাটায় ভেঙে পড়া সেতু এবং বন্যা পরিস্থিতি (Mamata Banerjee) ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বলেন, “সব জায়গাতেই তো দুর্যোগ হচ্ছে-মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড। কিন্তু আমরা কি কারও বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করি?” তিনি আরও জানান, “আমাদের রাজ্য এক টাকাও কেন্দ্র থেকে পায়নি, অথচ আমরা নিজের খরচেই উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ করছি।”
ত্রাণ ও পুনর্বাসনে জোর (Mamata Banerjee)
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “৪ তারিখ ভোরেই ডিজি ও মুখ্যসচিবের (Mamata Banerjee) সঙ্গে বৈঠকে বসি। স্থানীয় স্বাস্থ্য ও জেলা প্রশাসন দ্রুত মাঠে নামে। কোনও দুর্যোগ ঘটলে উদ্ধারকার্যে নামতে ৪৮ ঘণ্টার সময় প্রয়োজন হয়। আমরা সেইমতো দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি।” তিনি জানান, বহু পরিবার বাড়ি-ঘর হারিয়েছেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে অর্থসাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে দুর্গতদের হাতে। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির এক জন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
কার্নিভাল নিয়ে করা কটাক্ষের জবাব
বিরোধীদের কার্নিভাল নিয়ে করা কটাক্ষের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কার্নিভাল বাংলার গর্ব। বন্যা হলে উদ্ধারকার্যই তখন অগ্রাধিকার। অথচ কেউ কেউ শুধু প্রশ্ন করেন কেন আমি রোববারই দার্জিলিং যাইনি। আমি গেলে তো প্রশাসন শুধু আমাকে ঘিরে ব্যস্ত হয়ে যেত। তাতে দুর্গতদের সাহায্যে সময় ব্যয় হত। কাজ না করে ছবি তুলতে যাইনি আমি।” তিনি আরও বলেন, “কেউ কেউ বিশাল কনভয় নিয়ে প্লাবিত এলাকায় ঢুকছেন। এত গাড়ি ঢোকার ফলে গ্রামের রাস্তাও ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের নির্দেশ পরিষ্কার-কেউ তিনটির বেশি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না।”

আরও পড়ুন: Dev : উত্তরবঙ্গের কঠিন সময়ে পাশে আছি – দেব
দুর্যোগে প্রশাসনের ভূমিকা
মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় বিচার করেছি। অনেক জায়গায় রাস্তা, সেতু ভেঙেছে। জল নামার পরেই ফিল্ড স্টাডি করে পরবর্তী পরিকল্পনা করা হবে। পূর্ত দফতর ইতিমধ্যে নাগরাকাটা ব্রিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে।” শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। মানুষের পাশে থাকতে এসেছি। যারা শুধু সমালোচনা করে, তাদের উচিত বাস্তবটা আগে বোঝা।”


