Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটমুখী বাংলায় ‘এসআইআর’ ঘিরে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা ক্রমশই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে (Mamata Banerjee)। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা ও সাংসদ দেব এমন বহু পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের কাছেও এসআইআর শুনানির নোটিস পৌঁছনোয় প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই নিয়মমাফিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি ভোটের আগে পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল?

হেভিওয়েটদের নোটিস (Mamata Banerjee)
এসআইআর নোটিসের তালিকায় যখন একদিকে অমর্ত্য সেনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বুদ্ধিজীবী, অন্যদিকে বাংলার সাংস্কৃতিক গর্ব জয় গোস্বামী এবং ঘাটালের তিনবারের সাংসদ, জনপ্রিয় অভিনেতা দেবের নাম উঠে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে যদি এঁদেরও এভাবে ডাকা হয়, তাহলে প্রান্তিক সাধারণ ভোটারের অবস্থান কী?
হাজরার সভামঞ্চে মমতার বিস্ফোরক বার্তা (Mamata Banerjee)
এই আবহেই হাজরায় প্রতিবাদ সভামঞ্চে ঘাটালের সাংসদ দেবের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ক্ষোভ ও ব্যঙ্গ, “অমর্ত্য সেন বরবাদ, বাংলার গর্ব জয় গোস্বামী বরবাদ, এই যে দেব বসে আছে, তাকেও ডেকেছে। তিনবারের এমপি। ছিঃ! লজ্জা, ধিক্কার।” এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং তা বাংলার সংস্কৃতি, মনীষা ও জনপ্রিয়তার ওপর আঘাত বলেই তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
রূপোলি পর্দা থেকে সংসদ (Mamata Banerjee)
২০০৬ সালে সিনেদুনিয়ায় আত্মপ্রকাশ করা দেব ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাংলার ‘ঘরের ছেলে’। একের পর এক হিট ছবি, অনুরাগীদের ভালোবাসা এবং তারপর রাজনীতিতে প্রবেশ ২০১৪ সাল থেকে ঘাটালের সাংসদ হিসেবে তিনবার জয়। সেই দেবকেই এসআইআর শুনানির নোটিস দেওয়ায় তৃণমূল শিবির বলছে, জনপ্রিয়তার প্রতীকগুলিকেই টার্গেট করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, দেবের শুনানি নির্ধারিত রয়েছে ১৪ জানুয়ারি কাটজুনগর স্বর্ণময়ী স্কুলে।

ইডি অভিযান ও প্রতিবাদের রাজনীতি (Mamata Banerjee)
এসআইআর বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি নতুন করে উত্তাপ বাড়ায়। কয়লা দুর্নীতির তদন্তকে সামনে রেখে ইডির এই পদক্ষেপকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার বলেই আখ্যা দেয় তৃণমূল। এর প্রতিবাদে যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের লড়াইয়ে মমতার রণহুঙ্কার (Mamata Banerjee)
বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে মমতার বার্তা ছিল প্রতীকী অথচ তীক্ষ্ণ, “ভোটের সময় এলে নাড়ু বানিয়ে রাখব। তিলের নাড়ু, ক্ষীরের নাড়ু, মুড়ির নাড়ু। আর বাংলার মা-বোনেরা রাখবেন ঝাড়ু।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ভোটকে তিনি শুধু রাজনৈতিক অস্ত্র নয়, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছেন।
নির্বাচন কমিশনের কটাক্ষ (Mamata Banerjee)
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। সেই তালিকা নিয়েই বড় আশঙ্কার কথা শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মহিলা ও তরুণ প্রজন্মের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “১.৫ কোটি ভোট কাটার ক্ষমতা নিয়ে এসেছেন।”

আরও পড়ুন: Iran: ইরানে আর্থিক সঙ্কট, দেশজুড়ে বিক্ষোভ: সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে টলমল খামেইনির চেয়ার
ছাব্বিশের ডাক
সবশেষে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মমতার স্পষ্ট ঘোষণা, “ছাব্বিশে আমাদের নয়, তোমাদের পতন হবে। দিল্লিতে বিজেপি সরকার থাকবে না।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, এসআইআর বিতর্ক শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং তা ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠছে।



