Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চীনের ব্যাংককর্মী রেন ইংশিয়াও ও তাঁর সঙ্গী যখন মধুচন্দ্রিমার জন্য উপযুক্ত গন্তব্য খুঁজছিলেন, তখন তাঁদের চোখে পড়ে জিনজিয়াং প্রদেশের এক মনোরম স্থান সায়রাম হ্রদ (Marriage with Tourism)। চারণভূমি, পাহাড়, হ্রদ সব মিলিয়ে এক ছবির মতো সৌন্দর্য। কিন্তু তাঁদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে এক অদ্ভুত তথ্য এই হ্রদের পাশে রয়েছে একটি বিবাহ নিবন্ধন অফিস। রেন বলেন, “আমরা ভাবলাম, যেহেতু জায়গাটা এত সুন্দর, তাহলে সেখানেই গিয়ে বিয়ের সার্টিফিকেট নিলেই বা ক্ষতি কী!”
যেকোনো জায়গায় বিয়ে সম্ভব (Marriage with Tourism)
২০২৫ সালের মে মাসে, চীন সরকার একটি বড় পরিবর্তন আনে, এখন থেকে দম্পতিরা তাঁদের বাসস্থান নয়, দেশের যেকোনো জায়গায় বিয়ে করতে পারেন। এর ফলে বিয়ের প্রক্রিয়া যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই অনুষ্ঠানটিও হয়ে উঠেছে আরও বিশেষ। এই নীতির পর থেকে স্থানীয় প্রশাসনগুলো ‘বিবাহ পর্যটন’-এর নতুন উদ্যোগে নেমেছে, মনোরম দর্শনীয় স্থানে সঙ্গীত উৎসবে এমনকি পাতাল রেল স্টেশন, শপিং মল ও পার্কেও, বিবাহ নিবন্ধন বুথ খোলা হয়েছে।
জনসংখ্যা নীতিতে আশার আলো (Marriage with Tourism)
চীনে বিবাহের সংখ্যা সাধারণত জন্মহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সম্প্রতি তথ্য বলছে,২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিবাহের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ২২.৫% বেড়ে ১.৬১ মিলিয়নে পৌঁছেছে। এটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা নিম্নমুখী প্রবণতায় একটি বিরল উল্টো ঘূর্ণন। ২০২৪ সালে বিবাহের সংখ্যা নেমে গিয়েছিল রেকর্ড কম ৬.১ মিলিয়নে প্রায় ২০.৫% হ্রাস।
দেশজুড়ে অভিনব ‘বিবাহস্থল’ (Marriage with Tourism)
চীনের নানা শহর এখন বিয়ের জন্য আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হচ্ছে,
নানজিং: কনফুসিয়াস মন্দিরে দম্পতিরা মিং রাজবংশ-থিমযুক্ত ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান করতে পারেন।
চেংডু: জিলিং স্নো মাউন্টেনের ৩,০০০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে বিবাহ অফিস।
হেফেই: পাতাল রেলের ভেতরে খোলা হয়েছে “জিংফুবা” নামের বুথযার অর্থ “সুখের স্থান”।
সাংহাই: নাইটক্লাবের ভিতরেই এখন বিয়ের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা সম্ভব হুয়াংপু জেলার সিভিল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো ও INS Park-এর যৌথ উদ্যোগে।
শুভ প্রতীক’ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন (Marriage with Tourism)
বেইজিংয়ের দম্পতি ওয়াং জিয়ে (আইনজীবী, ৩১) ও ঝান ইয়ংকিয়াং (ব্যাংককর্মী, ৩৩) তাঁদের বিয়ে নিবন্ধন করেন হুগুও গুয়ানইন মন্দিরে। ওয়াং বলেন, “এই মন্দির মূলত দেশের শান্তি ও মঙ্গল রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। আর আমাদের ঐতিহ্যে গুয়ানইন মন্দির মানে শুভ বিবাহ ও সন্তানপ্রাপ্তির আশীর্বাদ।” তাঁরা জানান, নতুন নিয়ম তাঁদের বিয়ের সময় এগিয়ে দেয়নি, তবে প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ করেছে, কারণ এখন আর জন্মস্থানে ফিরতে হয় না।
সায়রাম হ্রদের বিশেষ আকর্ষণ (Marriage with Tourism)
সায়রাম হ্রদের চারপাশে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, রয়েছে সংখ্যাতত্ত্বের এক রোমান্টিক ব্যাখ্যা, হ্রদের উচ্চতা ২,০৭৩ মিটার, যা চীনা ভাষায় উচ্চারণে বোঝায় “তোমাকে গভীরভাবে ভালোবাসি”। আয়তন ১,৩১৪ বর্গকিলোমিটার, উচ্চারণে মানে “একটি জীবনকাল”। রাজধানী উরুমকি থেকে দূরত্ব ৫২০ কিলোমিটার, যা জনপ্রিয় সংখ্যাতাত্ত্বিক কোড “আমি তোমাকে ভালোবাসি” এর প্রতীক। রেন বলেন, “এই প্রতীকী সংখ্যাগুলোই জায়গাটিকে আমাদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।”
আরও পড়ুন: Donald Trump: তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি শেষ! এ কি আধুনিক আমেরিকার অন্ধকারতম মুহূর্ত?
এই সাফল্য কি স্থায়ী?
উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাবিদ ই ফুক্সিয়ান বলেন, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ায় বিবাহ কিছুটা বেড়েছে, তবে এই প্রবণতা “অল্পস্থায়ী” হতে পারে। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ২০–৩৪ বছর বয়সী নারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে যাবে (বর্তমান ১১.৬ কোটি থেকে নেমে হবে ৫.৮ কোটি)। ফুক্সিয়ানের মতে, বিশ্বব্যাপী প্রবণতার মতো চীনের তরুণ প্রজন্মও শিক্ষা ও আর্থিক স্বাধীনতাকে বিবাহের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।



