Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক ভারত সফর শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করেই থেমে থাকেনি (Modi-Putin); বরং শুরু থেকেই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছে যা কূটনৈতিক মহলকে বিস্মিত ও গভীর চিন্তায় ফেলেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুতিনের বিমান নয়াদিল্লির মাটিতে ছোঁয়া মাত্রই দেখা গেল এমন এক অভ্যর্থনা যার নজির অতীতে দুর্লভ।

টারমাকে প্রধানমন্ত্রী (Modi-Putin)
ভারতে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের অভ্যর্থনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের এক নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সাধারণত বিদেশমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রকের কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিমানবন্দরে হাজির হন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা। কিন্তু এ দিন সেই চিরাচরিত আচরণ ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই। রীতিমতো আকস্মিকভাবে তিনি উপস্থিত হলেন দিল্লি বিমানবন্দরের টারমাকে এবং নিজ হাতে স্বাগত জানালেন রুশ প্রেসিডেন্টকে। এমন উষ্ণ এবং ব্যক্তিগত সান্নিধ্য একদিকে যেমন ভারতের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকে আলাদা মাত্রা দেয়, তেমনি পুতিনের সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত equation-এর শক্তিশালী বার্তাও বহন করে।
প্রোটোকল ভাঙার সাহসী পদক্ষেপ (Modi-Putin)
অভ্যর্থনার চেয়েও বেশি আলোড়ন ফেলেছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের একই গাড়িতে যাত্রা করা। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে রাষ্ট্রনেতাদের নিরাপত্তা এবং প্রোটোকল কঠোরভাবে মানা হয়। আলাদা গাড়িতে যাওয়াই রেওয়াজ। কিন্তু মোদি সেই ধারা ভেঙে পুতিনকে নিজের সাদা টয়োটা ফরচুনার গাড়িতে বসিয়েই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে রওনা হন। গাড়িটির নম্বর MH01EN5795, যাতে পাশাপাশি দেখা যায় ভারত ও রাশিয়ার পতাকা দু’দেশের বন্ধুত্বের দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে। সাধারণত মোদি যাতায়াত করেন কালো রেঞ্জ রোভার সেন্টিনেলে। কিন্তু এদিন তিনি তা ব্যবহার করেননি। বরং অপেক্ষাকৃত সাধারণ ফরচুনার নিয়েই পুতিনকে নিয়ে যান। ভেতরে দুই নেতাকে হাস্যোজ্জ্বল, আরামপ্রবণ, আলাপচারিতায় ব্যস্ত দেখা যায় যা কূটনৈতিক মহলে “সফট পাওয়ার ডিপ্লোমেসি”-র এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্পর্কের নতুন বার্তা (Modi-Putin)
এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে একটি স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক এখনও শক্তিশালী, বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তিতে নির্মিত। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বহুস্তরীয় টানাপোড়েন ও চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেও ভারত পুরনো বন্ধু রাশিয়ার সঙ্গ ছাড়ছে না। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও এই পদক্ষেপকে “কূটনৈতিক মাইলস্টোন” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিমানবন্দরে মোদির উপস্থিতি এবং পুতিনকে একই গাড়িতে নিয়ে যাওয়া বিশ্বমঞ্চে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির এক দৃঢ় ঘোষণা।
মোদির বার্তা (Modi-Putin)
মোদি তাঁর X হ্যান্ডেলে লেখেন, “সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব।” এ বার্তা শুধু রাজনৈতিক নয়, আবেগঘনও। ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের সাত দশকের যাত্রা এই উক্তিতেই যেন凝বদ্ধ। পুতিনকে তিনি উপহার দেন রুশ ভাষায় অনূদিত ভগবদ গীতা যা কূটনৈতিক উপহারের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গীতা যেমন ভারতীয় দর্শনের আত্মা, তেমনই রাশিয়ায় ভারতীয় চিন্তাধারার জনপ্রিয়তার প্রতীক।

আরও পড়ুন: Placement: চাকরির বাজারে বড় খবর: দেশের আইআইটিগুলিতে রেকর্ড নিয়োগ, প্রথম দিনেই ঝড়!
পুরনো সম্পর্কের প্রতিফলন
এর আগে তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে দেখা গিয়েছিল উল্টো দৃশ্য মোদি উঠেছিলেন পুতিনের বিলাসবহুল Aurus Senat-এ।
সেই স্মৃতির পুনরাবৃত্তির মতো এবার পুতিন উঠলেন মোদির ফরচুনায়। যদিও তাঁর অরাস সেনেটও কনভয়ের অংশ হিসেবে পিছনে চলছিল, কিন্তু দুই নেতার ঘনিষ্ঠতার প্রতীক হিসেবে মূল চিত্র দখল করে নেয় ফরচুনারই।



