Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মনবীর সিংয়ের গোলে চেন্নাইয়িন এফসিকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট ঘরে তুলেছে মোহনবাগান (Mohun Bagan)। কিন্তু জয় এলেও দলের পারফরম্যান্সে একেবারেই সন্তুষ্ট নন সবুজ-মেরুনের গ্রিক কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস। ম্যাচের পর তাঁর বক্তব্য, যত দ্রুত সম্ভব এই ম্যাচ ভুলে পরের লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে মন দিতে হবে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো, বলের দখল ধরে রাখতে না পারা এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল—দলের এই সমস্যাগুলি দ্রুত শুধরে নিতে চান তিনি।
৪-২-৩-১ ফরমেশনেই বেশি স্বচ্ছন্দ মোহনবাগান? (Mohun Bagan)
দলের ফরমেশন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের কথাও জানিয়েছেন দিলেমপেরিস। তাঁর মতে, ৪-৪-২-এর তুলনায় ৪-২-৩-১ ফরমেশনে মোহনবাগানকে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ দেখাচ্ছে। তবে শুধু ফরমেশন বদল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাঠে ভুলের সংখ্যা কমানো এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন কোচের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জয় পেলেও দলের খেলায় যে বেশ কিছু খামতি রয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
সমস্যায় সবুজ-মেরুন (Mohun Bagan)
চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি মোহনবাগান। বিশেষ করে তালাল ও নিকোলার প্রভাব সামলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে দল। ফরমেশনে পরিবর্তন এনেও প্রথমার্ধে পুরোপুরি পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনতে পারেনি সবুজ-মেরুন। দ্বিতীয়ার্ধে সাহাল মাঠে নামার পর অবশ্য খেলার ভারসাম্যে কিছুটা পরিবর্তন আসে। ভারতীয় ফুটবলারদের উপর আস্থা প্রকাশ করে দিলেমপেরিস জানান, সাহাল মাঠে নেমে খেলার চেহারা বদলে দিতে পারবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস ছিল।
বিনা চাপে পজেশন হারানো (Mohun Bagan)
দলের অপ্রয়োজনীয় ভুল নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের চাপ না থাকলেও বলের দখল হারানোর প্রবণতা রয়েছে ফুটবলারদের মধ্যে। আবার বল জিতে নেওয়ার পর দ্রুত সামনে খেলার পরিবর্তে পিছনের দিকে পাস দেওয়ার প্রবণতাও দলের আক্রমণ গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই সমস্যা নিয়ে দু’দিন আগেও দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিলেমপেরিস। বলের দখল ফিরে পাওয়ার পর দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার উপরেই জোর দিতে চান তিনি। তাঁর মতে, এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে দলের ট্রানজিশন গেম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মাঝমাঠে চাই বৈচিত্র্য (Mohun Bagan)
আক্রমণের ধরন নিয়েও অসন্তোষ গোপন করেননি মোহনবাগান কোচ। বারবার দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করে ক্রসের উপর নির্ভর করলে প্রতিপক্ষের পক্ষে সবুজ-মেরুনের খেলার ধরন বুঝে নেওয়া সহজ হয়ে যায়। তাই আক্রমণে আরও বৈচিত্র্য আনতে চান দিলেমপেরিস। উইং দিয়ে আক্রমণের পাশাপাশি মাঝমাঠের ভিতর দিয়ে সুযোগ তৈরি করার দিকেও নজর দিতে হবে ফুটবলারদের। তবেই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার কাজ সহজ হবে বলে মনে করছেন তিনি।
ভারসাম্য ফিরলেও আত্মতুষ্টি নয় (Mohun Bagan)
লিস্টন কোলাসো ও শুভাশিস বোসকে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন দিলেমপেরিস। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনগুলির ফলে দল কিছুটা ভারসাম্য ফিরে পেয়েছিল এবং গোলের সুযোগ তৈরিও সম্ভব হয়েছিল। তবে খেলা পরিকল্পনামতো না চললে কোচকে নতুন কৌশল প্রয়োগ করতে হয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। ডাগআউটে বসে পরিস্থিতি দেখার পরিবর্তে মাঠের ফুটবলারদের সাহায্য করাই তাঁর দায়িত্ব বলে মনে করেন মোহনবাগানের গ্রিক কোচ।
আরও পড়ুন: Virat Kohli: ‘হ্যারি মাই ফ্রেন্ড’, কেনকে খোলা চিঠি বিরাটের!
পরের ম্যাচে নজর মোহনবাগানের (Mohun Bagan)
চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে জয় নিঃসন্দেহে স্বস্তি দিয়েছে মোহনবাগানকে (Mohun Bagan)। কিন্তু দলের খেলার মান নিয়ে যে আরও কাজ করা প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডিলমপেরিস। অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানো, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং আক্রমণে নতুনত্ব আনার উপরেই এখন জোর দিতে চান তিনি। তাই তিন পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দে ভেসে না গিয়ে দ্রুত পরের ম্যাচের প্রস্তুতিতে মন দিতে হবে সবুজ-মেরুনকে। কোচের বার্তা পরিষ্কার—জয় এসেছে ঠিকই, কিন্তু উন্নতির জায়গাগুলি ভুলে গেলে চলবে না।



