Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: অন্যতম প্রধান শত্রু মশা (Mosquito)। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কোণেই মশাকে দূর করার জন্য নিত্যনতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করা হচ্ছে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, জিকা—অসংখ্য প্রাণঘাতী রোগের মূল বাহক এই ক্ষুদ্র পোকাটি। ফলে মানিকতলা থেকে মিয়ামি, কায়রো থেকে কিয়োটো—সবখানেই পৌরসভা ও স্বাস্থ্য দপ্তরগুলো নিরলসভাবে মশা দমনেই ব্যস্ত।
কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা আছে যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় কোটি কোটি মশা ছেড়ে দিচ্ছে। পাগল বিজ্ঞানীর অদ্ভুত পরীক্ষানিরীক্ষা নয়, বরং অত্যন্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া একটি পরিকল্পনা। স্থানটি হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ। এখানে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ড্রোন ব্যবহার করে জঙ্গলের ভেতরে বিশেষ ধরনের ব্যাগ ভর্তি মশা ছড়ানো হচ্ছে।
কেন ছাড়া হচ্ছে মশা? (Mosquito)
এই উদ্যোগের মূল কারণ হলো হাওয়াইয়ের এক বিশেষ প্রজাতির পাখি—হাওয়াইয়ান হানিক্রিপার (Mosquito)। পৃথিবীর আর কোথাও এরা নেই, কেবল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জেই এদের বসবাস। এই পাখির বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন শীতল, নিরক্ষীয় অরণ্য, যা পৃথিবীতে অত্যন্ত বিরল। বিগত কয়েক দশকে এমন বনভূমি ক্রমশ কমে আসছে। ফলে প্রজাতিগুলো বিলুপ্তির মুখে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০টি প্রজাতি চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছে, আর বাকি মাত্র ১৭টি প্রজাতিও মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন।
এই বিপদের সবচেয়ে বড় কারণ—মশা ও অ্যাভিয়ান ম্যালেরিয়া। যেমন মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, তেমনি এই বিরল পাখিগুলিও মশার কামড়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আগে হাওয়াইয়ের উচ্চভূমি শীতল হওয়ায় মশার প্রকোপ তেমন ছিল না। কিন্তু বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় মশা এখন পাহাড়ি বনাঞ্চলেও বংশবিস্তার করছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক হাওয়াইয়ান পাখি মারা যাচ্ছে, বিশেষ করে কিউইকিউ এবং আকিকি নামের দুটি প্রজাতি সবচেয়ে বেশি বিপন্ন অবস্থায় আছে।

বৈজ্ঞানিক সমাধান (Mosquito)
সমস্যার সমাধান খুঁজতে বিজ্ঞানীরা নিলেন এক অভিনব পথ। গবেষণাগারে পুরুষ মশার শরীরে প্রবেশ করানো হচ্ছে এক বিশেষ জীবাণু, যার নাম উলব্যাকিয়া । এটি একটি ব্যাকটেরিয়া, যা মশার প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়।
যখন উলব্যাকিয়া-সংক্রমিত পুরুষ মশা স্বাভাবিক স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন ডিম থেকে নতুন মশার জন্ম হয় না। ফলে ধীরে ধীরে প্রজননের হার কমতে থাকে এবং মশার সংখ্যা প্রাকৃতিকভাবে হ্রাস পায়। এভাবে পরিবেশের ক্ষতি না করেই, কীটনাশক ব্যবহার না করেই মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কীভাবে ছড়ানো হচ্ছে এই মশা? (Mosquito)

প্রতিদিন ড্রোনের মাধ্যমে জঙ্গলের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ ধরনের বায়ো-ডিগ্রেডেবল ব্যাগ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ব্যাগে থাকে অসংখ্য পুরুষ মশা। ব্যাগটি ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে যায় এবং মশাগুলো মুক্ত হয়ে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ লক্ষ পুরুষ মশা এইভাবে ছাড়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Bigg Boss 19: বিগ বসের অন্দরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, প্রতিযোগিতায় জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর!
ভবিষ্যতের আশা!
বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে কয়েক বছরের মধ্যেই প্রাণঘাতী মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। মশার সংখ্যা কমলে হাওয়াইয়ের বিরল ও অপূর্ব পাখিগুলি—বিশেষত হাওয়াইয়ান হানিক্রিপার, কিউইকিউ এবং আকিকি—বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ পাবে।



