Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের মর্মান্তিক মৃত্যু। বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) চত্বরের পুকুর থেকে উদ্ধার তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীর দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। কীভাবে পুকুরে পড়লেন তরুণী? দুর্ঘটনা না অন্য কিছু— তা ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন, তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) চলছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান চলাকালীন রাত ১০টা কুড়ি মিনিট নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেট সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের নিথর দেহ। দ্রুত দেহ উদ্ধার করে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিলপাড়ে মদ্যপান চলছিল, দাবি বন্ধুদের (Jadavpur University)
ঘটনার পর মৃতার পাঁচ বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা জানিয়েছেন, রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ঝিলপাড়ে বসেছিলেন পাঁচ বন্ধু ও অনামিকা। সেখানে একসঙ্গে মদ্যপান চলছিল। জেরায় তাঁরা বলেন, অনামিকা নিজেই বলেন, “গরম লাগছে, আমি জলে নামব।” যদিও বন্ধুরা তাঁকে বারণ করেছিলেন, কারণ তিনি সাঁতার জানতেন না। কিন্তু পুকুরে জল অগভীর ভেবে কেউই বড় বিপদের আশঙ্কা করেননি।

আরও পড়ুন: Human Trafficking: খাস কলকাতায় দেহব্যবসার চক্র! উদ্ধার ৯ নাবালিকা, গ্রেফতার ৬
বন্ধুরা জানিয়েছেন, অনামিকা ঝিলে নামার পরই তারা বুঝতে পারেন তিনি ডুবে যাচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা জলে নেমে তাঁকে টেনে তোলেন, তবে ততক্ষণে তিনি অচৈতন্য। এরপর চিৎকার করে নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যদের ডাকা হয়, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
তবে সত্যিই কি তা-ই? উঠছে নানা প্রশ্ন (Jadavpur University)
তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র বন্ধুদের বয়ানে ভরসা রাখা যাচ্ছে না। সত্যিই কি অনামিকা স্বেচ্ছায় জলে নেমেছিলেন? নাকি মদের আসরে বচসা, কিংবা নিছক মজা করেই তাঁকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল জলে? এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ (Jadavpur University)। তদন্তকারীরা জানান, একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। বন্ধুরা একসঙ্গে মদ্যপান করলেও অনামিকা আদৌ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই।
আরও পড়ুন: Kolkata Metro Railway : এখন থেকে সপ্তাহান্তেও ইয়েলো লাইনে মিলবে মেট্রো
পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। ঘটনার পিছনে থাকা প্রকৃত সত্য জানতে আজই ঘটনাস্থলে যাবে ফরেনসিক টিম। পাশাপাশি মৃতার বন্ধুদের আরও জেরা করা হবে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য বদলে দিতে পারে গোটা ঘটনার মোড়।


