Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজোর আচার-অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে (Nabapatrika Snan) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এক রীতি হল নবপত্রিকা স্নান। প্রচলিত ভাষায় একে অনেকেই “কলা বউ স্নান” নামেও চেনেন। সপ্তমীর সকালে, সূর্যোদয়ের আগেই এই আচারটি সম্পন্ন হয় এবং এটি দিয়ে মূলত দেবী দুর্গার নবদুর্গা রূপের আরাধনার সূচনা হয়।
নবপত্রিকার প্রতিনিধিত্ব (Nabapatrika Snan)
এই রীতিতে একটি পূর্ণবয়স্ক কলাগাছকে পবিত্র নদীর জলে (Nabapatrika Snan) স্নান করিয়ে, নববধূর মতো নতুন শাড়ি পরানো হয়। কলাগাছটি শুধু একটি প্রতীক নয়-এটি নবপত্রিকার প্রতিনিধিত্ব করে। যদিও নাম শুনে মনে হয় এখানে শুধুমাত্র ৯টি পাতা ব্যবহৃত হয়, আসলে এটি নয়টি পৃথক গাছের প্রতীক।
নয়টি পৃথক গাছের প্রতীক (Nabapatrika Snan)
এই নয়টি গাছ হল-কলা, বেল, অশোক, কচু, হলুদ, ধান, জয়ন্তী, (Nabapatrika Snan) মান ও দাড়িম। প্রতিটি গাছের পেছনে রয়েছে বিশেষ দেবীর প্রতীকী উপস্থিতি। যেমন কলা গাছ দেবী ব্রহ্মাণীর প্রতীক, কচু গাছ কালিকার, হলুদ উমার, এবং এইভাবে প্রতিটি গাছ এক একটি শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। একত্রে এই নয়টি গাছকে বলা হয় নবপত্রিকাবাসিনী নবদুর্গা।
মহাস্নানের আচার
নবপত্রিকার এই প্রতীকী দেবীমূর্তি মণ্ডপে আনার পর দেবী দুর্গার মহাস্নানের আচার শুরু হয়। এটি শুধু এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর যোগেরও প্রতিফলন। কৃষিনির্ভর সমাজে ধান, কচু, হলুদ, বেল গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং এই গাছগুলোর আরাধনার মাধ্যমে প্রকৃতিকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ঐতিহ্যও জড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন: Horoscope Update: বুধের গতি পাল্টাবে ভাগ্য! জীবনে একদম চাপ নেবেন না…
মন্ত্রের মাধ্যমে দেবীকে আহ্বান
নবপত্রিকা প্রবেশের আগে, পত্রিকার সামনে দেবী চামুণ্ডার পুজো করা হয়। অন্যান্য কোনও দেবীকে পৃথকভাবে পুজো করা হয় না। মূলত, নবপত্রিকার মাধ্যমে এই নয় দেবীর সম্মিলিত শক্তির পূজা সম্পন্ন হয়। এর মন্ত্রও রয়েছে:
“নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ”-এই মন্ত্রের মাধ্যমে দেবীকে আহ্বান জানানো হয়।


