Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যে কত গভীরভাবে বিশ্বের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে (Nahoum and Sons), তারই এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বেকারি নহুম অ্যান্ড সন্স-এর সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়া। একটি ছোট্ট ঘোষণাপত্র “এলপিজি সংকটের কারণে ১৮ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত বেকারি বন্ধ” আসলে এক বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটের প্রতিধ্বনি বহন করে।

কলকাতার বুকে আছড়ে পড়া প্রভাব (Nahoum and Sons)
বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বাণিজ্য এমনভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যে, এক প্রান্তের সংঘাত অন্য প্রান্তে দৈনন্দিন জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পরিস্থিতি তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘর্ষ শুধু সামরিক উত্তেজনা বাড়ায়নি, বরং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালী যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ সেটির অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মারাত্মক ধাক্কা। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এর উপর নির্ভরশীল দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক।
এক বহুমাত্রিক সংকটের রূপ (Nahoum and Sons)
ভারতের মতো দেশ, যেখানে জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর, সেখানে এই সংকটের প্রভাব দ্রুত ও তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিশ্চয়তা, এবং নতুন বুকিং সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সব মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট কেবল গৃহস্থালির রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ছোট ব্যবসা, হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বেকারির মতো প্রতিষ্ঠানগুলির অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মজুত গ্যাস ফুরিয়ে গেলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

নাহুম অ্যান্ড সনস (Nahoum and Sons)
কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটে অবস্থিত নাহুম অ্যান্ড সনস কেবল একটি বেকারি নয়, এটি শহরের ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং আবেগের এক অমূল্য অংশ। বহু প্রজন্ম ধরে এই বেকারি কেকপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। প্লাম কেক, ফ্রুট কেক, ড্রাই কেক নাহুমের প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্মৃতি, উৎসব এবং পারিবারিক আনন্দের মুহূর্ত। বিশেষ করে বড়দিন বা উৎসবের মরশুমে এই বেকারির সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন যেন কলকাতার এক চিরচেনা ছবি।
আরও পড়ুন: Weather Kolkata: ঈদের দিন, রাতভর বৃষ্টি সঙ্গে দমকা হাওয়া, আজও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
এই বেকারির দীর্ঘ ইতিহাসে এমনভাবে ঝাঁপ বন্ধ হওয়া অত্যন্ত বিরল। অতীতে মাত্র দু’টি উল্লেখযোগ্য ঘটনার সময় এই বেকারি বন্ধ হয়েছিল ২০১৩ সালে কর্ণধার David Nahoum-এর প্রয়াণ, ২০২০ সালে COVID-19 pandemic-এর জেরে দেশজুড়ে লকডাউন, এই দুই সময় ছাড়া নাহুম অ্যান্ড সনস প্রায় সব প্রতিকূলতার মধ্যেও চালু ছিল। ফলে এবারের গ্যাস সংকটজনিত বন্ধ নিঃসন্দেহে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।



