Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তাপমাত্রা যখন চড়ছে (Narendra Modi), ঠিক সেই সময়েই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠা সিঙ্গুরের মাটিতে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিল্প আন্দোলনের স্মৃতিবাহী এই অঞ্চল থেকেই তিনি দিলেন ‘পালাবদলের ডাক’। উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং বাঙালি অস্মিতার প্রশ্নে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিঙ্গুর বেছে নেওয়াই ছিল বিজেপির সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা যেখানে অতীতের ক্ষোভ আর ভবিষ্যতের প্রত্যাশাকে একসূত্রে বাঁধার চেষ্টা।

বাঙালি অস্মিতা ও বিজেপির পাল্টা বয়ান (Narendra Modi)
বাংলায় বিজেপিকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘অবাঙালিদের দল’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সেই অভিযোগ ভাঙতেই এদিন সিঙ্গুরের সভামঞ্চে বারবার উঠে এল ভাষা, সংস্কৃতি ও বাঙালি গর্বের প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “বিজেপির মতো করে বাংলাকে সম্মান কেউ করে না।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আমলেই বাংলা ভাষা ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর কথায়, এই স্বীকৃতির ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় নতুন গতি আসবে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলা আরও মর্যাদা পাবে।
সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার (Narendra Modi)
মোদির বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় দুর্গাপুজো। তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের উদ্যোগেই দুর্গাপুজো ইউনেসকোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্গাপুজোর মতো সর্বজনীন বাঙালি আবেগকে সামনে রেখে বিজেপি এই বার্তাই দিতে চাইছে তারা শুধু উন্নয়নের রাজনীতি নয়, বাংলার সংস্কৃতিকেও সমান গুরুত্ব দেয়। এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন তৃণমূলের ‘সংস্কৃতির রক্ষাকর্তা’ ভাবমূর্তিতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে, অন্যদিকে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তার সাম্প্রতিক অভিযোগের আবহে নিজেদের ‘বাঙালিপন্থী’ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে।

তৃণমূলের ঘাড়ে দায় ঠেলে মোদি (Narendra Modi)
সভায় সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ শোনা যায় অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে। এসআইআর (Narendra Modi) নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের এবং দেশের সুরক্ষা নিয়ে খেলা করছে।” মোদির দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে তৃণমূল তাদের ভোটব্যাঙ্ক শক্ত করছে। এমনকি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে ধর্না পর্যন্ত বসে রাজ্যের শাসকদল এই অভিযোগও তোলেন তিনি।
কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের নতুন অধ্যায় (Narendra Modi)
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১১ বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিকবার রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখেছে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে। কিন্তু রাজ্যের তরফে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলেই অভিযোগ তাঁর। এছাড়াও, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভুয়ো নথি তৈরিতে রাজ্যের শাসকদল মদত দিচ্ছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মোদি। তাঁর কথায়, শুধু ভবিষ্যতের অনুপ্রবেশই নয়, অতীতে ভুয়ো নথির মাধ্যমে যাঁরা দেশে থেকে গিয়েছেন, তাঁদেরও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: Narendra Modi: মোদির সিঙ্গুর সভা কি ছাব্বিশের ভোটের টার্নিং পয়েন্ট!
আশ্বাসের রাজনীতি
তবে অনুপ্রবেশ বিরোধী কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি মতুয়া সমাজকে বার্তা দিতেও ভোলেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনে সিএএ প্রয়োগ করে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রভাবশালী মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে কাছে টানতেই এই আশ্বাস।



