Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানার অন্তর্গত নাজিরাবাদে জোড়া গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্রমশই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা (Anandapur Fire)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত। তবে আশঙ্কা আরও গভীর কারণ সরকারি ভাবে এখনও ২০ জন নিখোঁজ। রবিবার গভীর রাত, প্রায় ভোর ৩টে নাগাদ এই আগুন লাগে। সোমবার পেরিয়ে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্তও ধিকিধিকি করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই স্পষ্ট করে।

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেহাংশ (Anandapur Fire)
পুড়ে যাওয়া গুদাম চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া গিয়েছে দেহাংশ। দগ্ধ অবস্থায় থাকায় মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে পুলিশ। কারা ওই সময় গুদামের ভিতরে ছিলেন, তাঁদের সংখ্যা কত তা এখনও নিশ্চিত নয়। এই অনিশ্চয়তাই মৃত ও নিখোঁজদের পরিবারকে আরও গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।
গ্রেফতার গুদাম মালিক, দায় কার? (Anandapur Fire)
এই ঘটনার পর নাজিরাবাদে ভস্মীভূত ডেকরেটর্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। দমকল বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একই ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও দায়ের করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ডেকরেটর্সের গুদামের পাশেই ছিল একটি মোমো কোম্পানির গুদাম, সেটিও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ওই মোমো কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু হলেও, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

গঙ্গাধরের পাল্টা দাবি (Anandapur Fire)
গ্রেফতার হওয়ার পর গঙ্গাধর দাস পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য তিনি দায়ী নন। তাঁর বক্তব্য, পাশের মোমো কারখানার গাফিলতির কারণেই আগুন ছড়ায়। তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসা এই ঘটনায় সম্পূর্ণভাবে সর্বস্বান্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে বাস্তবে আগুন প্রথম কোন গুদাম থেকে ছড়ায় তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ভয়াবহ অভাব (Anandapur Fire)
এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হল গুদামগুলিতে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি স্পষ্ট জানান, “ওই গুদামের জন্য দমকল বিভাগের তরফে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।” অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন এই গুদামগুলি চলছিল, তা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। রণবীর কুমার স্বীকার করেন, দমকল বিভাগের তরফেও কোনও ত্রুটি থেকে থাকতে পারে এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন (Anandapur Fire)
এই অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেন আগে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, কেন বেআইনি ভাবে গুদাম চলতে দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কারও রুটিরুজি বন্ধ করা ঠিক নয়। তা হলে আপনারাই আবার প্রশ্ন করবেন।” তবে এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ
ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জলাভূমি ভরাট করে গুদাম নির্মাণ। যদিও মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেন, ওই গুদাম জলাভূমির উপর ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি আশ্বাস দেন, নতুন করে আর কোনও জলাভূমি ভরাট হচ্ছে না।



