Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চাঁদে একটা বাড়ি হলে মন্দ হয় না! কি তাই তো? এই তো কিছুদিন আগে পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল চাঁদে জমি কিনতে এই করুন সেই করুন হঠাৎ সব কি থেমে গেল ? চাঁদে সেই বুড়িটা কি আজও চরকা ঘোরাচ্ছে, তার হদিস কি খোঁজে পাওয়া গেছে? কল্পবিজ্ঞানের গল্পে চাঁদের মাটিতে মানুষের বসতি গড়ার স্বপ্ন প্রায় বহুদিনের। এবার সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে বাস্তবের রূপ নিতে চলেছে ভাবা যায় (NASA)!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/08/12/chander-bari-2026-08-12-12-57-27.jpg)
ভারত ও আমেরিকার মহাকাশ গবেষণায় কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হচ্ছে। বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে NASA-র পক্ষ থেকে ISRO-কে তাদের ‘মুন বেস’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে চাঁদের বুকে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করার মহাপরিকল্পনায় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।
NASA-ISRO জোটে সাফল্যের নতুন অধ্যায় (NASA)
মহাকাশ গবেষণায় ভারত-মার্কিন সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি NISAR স্যাটেলাইট ইতিমধ্যেই মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করেছে। পৃথিবীর ভূমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক পরিবর্তন সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে এই উপগ্রহের ভূমিকা রয়েছে। একইভাবে ভারতীয় মহাকাশচারী শুভ্রাংশু শুক্লার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রাও দুই দেশের সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সামনে এনেছে। একের পর এক সাফল্য ভবিষ্যতের আরও জটিল মহাকাশ অভিযানের ভিত শক্ত করছে।
Artemis-এর হাত ধরে চাঁদে ফের মানুষ (NASA)
NASA-র Artemis কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হল চাঁদের সঙ্গে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ তৈরি করা। শুধু চাঁদে গিয়ে ফিরে আসা নয়, ভবিষ্যতে সেখানে নিয়মিত যাতায়াত এবং গবেষণার পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে গবেষণা ও ভবিষ্যৎ মানব বসতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
গগনযান থেকে চাঁদে ভারতীয় পদচিহ্ন (NASA)
ভারতও নিজের মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ISRO-র গগনযান কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতীয় মহাকাশচারীদের মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশচারীকে চাঁদের মাটিতে পৌঁছে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও রয়েছে। ফলে NASA-র Artemis এবং ভারতের গগনযান ও ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের মধ্যে সহযোগিতা তৈরি হলে দুই দেশের মহাকাশ কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:North Bengal: বাঙালি-ভাটিয়াদের নিয়ে মন্তব্যে আইনি জটিলতায় তৃণমূল যুবনেতা
মহাকাশ সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত
বেঙ্গালুরুর বৈঠকে মহাকাশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে NASA ও ISRO-র এই মেলবন্ধন শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চাঁদে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি যদি সত্যিই বাস্তব হয়, তবে সেই ইতিহাসের পাতায় ভারতের নামও যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে লেখা হতে পারে, তা বলাই যায়।



