Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ইস্তফার পর (Nepal Unrest) নেপালে সাময়িক রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলেও, তা দ্রুত ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস বিক্ষোভ, আগুন, লুঠতরাজ এবং অরাজকতা। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে গিয়েছে যে, শাসনভার নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী। সেনা-শাসনের মধ্যেও থামছে না বিশৃঙ্খলা, বরং প্রতিদিন নতুন নতুন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে অশান্তির আঁচ।
পশুপতিনাথ মন্দিরে হামলার চেষ্টা (Nepal Unrest)
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এবার বিক্ষোভের নিশানায় পড়েছে (Nepal Unrest) ধর্মস্থলও। কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক পশুপতিনাথ মন্দিরে হামলার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। মন্দির চত্বরে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয় মঙ্গলবার রাতে। হামলার নিশানা হয় মন্দিরের গেট ও আশপাশের অংশ। সেনা সতর্ক থাকায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেলেও, বন্ধ করে দিতে হয়েছে মন্দিরের দরজা। এখন পুরো চত্বরের দায়িত্বে সেনা, গোশালা চকেও মোতায়েন করা হয়েছে বাহিনী।
জনজীবনের উপর হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না (Nepal Unrest)
এ প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন-ধর্মস্থল (Nepal Unrest), সরকারি সম্পত্তি বা জনজীবনের উপর হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জাতীয় ঐক্য ও শান্তি রক্ষার স্বার্থে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
পাঁচ বন্দির মৃত্যু
অপরদিকে, হিংসার রেশ থামেনি দেশের বিভিন্ন জেলেও। বাঁকে জেল ও সংশ্লিষ্ট জুভেনাইল হোমে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে মঙ্গলবার রাতে। পুলিশ গুলি চালালে পাঁচ বন্দির মৃত্যু হয়, আহত হয় অনেকে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায় ২০০-র বেশি বন্দি, যার মধ্যে ১৪৯ জন সাজাপ্রাপ্ত ও ৭৬ জন বিচারাধীন। নিখোঁজ নাবালক বন্দিদের খোঁজেও অভিযান শুরু করেছে সেনা। বাঁকে জেল চত্বরে বর্তমানে কড়া নজরদারিতে রয়েছে সেনাবাহিনী।
পর্যটনের ওপরও অরাজকতার প্রভাব
পর্যটনের ওপরও এই অরাজকতার বড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। লুম্বিনীর গৌতম বুদ্ধ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পার্কিং এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক গাড়িতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচটি গাড়ি ও দুটি মোটরসাইকেল। বিমান পরিষেবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।
আরও পড়ুন: Nepal Unrest: অশান্ত নেপালের জেরে পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যে বড়সড় ধাক্কা, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
বিশ্লেষকদের মতে, সেনা হস্তক্ষেপেও যদি হিংসা না থামে, তবে নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষ যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। এখন দেখার, সেনার কড়া অবস্থান ও রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কবে এই অস্থিরতা প্রশমিত হয়, আর ফিরে আসে শান্তিপূর্ণ, পর্যটকপ্রিয় সেই পুরনো নেপাল।


