Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে (Uidai Aadhaar Card) বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযানে (Special Intensive Revision বা SIR) আধার কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্র রক্ষার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায় ভোটাধিকারকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) বিতর্কিত অবস্থানকে আইনি ভাবে খণ্ডন করেছে।
আধার নিয়ে কমিশনের আপত্তি (Uidai Aadhaar Card)
নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, আধার কার্ড কেবল বাসস্থানের প্রমাণ, নাগরিকত্বের নয়(Uidai Aadhaar Card)। তাই এটি ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যবহারযোগ্য নয়। কিন্তু আদালত যুক্তি দেন, তালিকাভুক্ত অন্য ১১টি নথির মধ্যে মাত্র পাসপোর্ট ও জন্মসনদ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে। তাহলে কেবল আধারকে কেন বাতিল করা হবে? আদালত স্পষ্ট করেন, প্রামাণিকতা যাচাই সাপেক্ষে আধার ব্যবহার করা যাবে।
লক্ষ লক্ষ ভোটারের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত (Uidai Aadhaar Card)
বিহারে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে আধার কার্ড রয়েছে(Uidai Aadhaar Card)। অথচ পাসপোর্ট রয়েছে মাত্র ২ শতাংশের। এই বাস্তবতায় আধার বাদ দিলে কোটি মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে পড়ত। ইতিমধ্যেই কমিশনের তড়িঘড়ি করা সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
পরিসংখ্যান দেখিয়েছে, এতে বহু অনিয়ম রয়েছে—
- অসংগতিপূর্ণ হারে মহিলাদের নাম বাদ
- কিছু অঞ্চলে অস্বাভাবিক হারে মৃত ভোটার দেখানো
- প্রবাসী শ্রমিক ও বিবাহিত মহিলাদের ব্যাপক সংখ্যক স্থানান্তর দেখানো
এসব ইঙ্গিত করছে, যাচাই প্রক্রিয়ার ত্রুটির ফলে বৈধ ভোটাররাই বাদ পড়ছেন।

আরও পড়ুন : Nepal Gen Z Protest : নেপালের সংবিধান বদল-সহ একাধিক দাবি রাখলেন বিক্ষোভকারীরা
আদালতের রায়ের তাৎপর্য (Uidai Aadhaar Card)
এই নির্দেশে দুইটি বড় প্রভাব পড়বে—
- যেসব ভোটারকে খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।
- নতুন বা পুরনো ভোটারদের জন্য নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কমিশনের কাজ হওয়া উচিত যথার্থতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, অযথা দ্রুত শেষ করা নয়।
সারাদেশে নজির (Uidai Aadhaar Card)
এই রায় কেবল বিহারের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের সব ভোটার তালিকা সংশোধনী অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। নির্বাচন কমিশনকে এখন বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের নীতি মিলিয়ে নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় আবারও প্রমাণ করল—গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল ভোটাধিকার, আর সেটিকে খর্ব করার মতো প্রশাসনিক কড়াকড়ি কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।


