Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সাম্প্রতিক ক্ষমাপ্রার্থনা ঘিরে নতুন বিতর্ক(Netanyahu Apology)। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত একটি সাদা-কালো ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন হাতে ধরে আছেন, আর নেতানিয়াহু নিচের দিকে তাকিয়ে যেন একটি কাগজ থেকে কিছু পড়ছেন। দাবি করা হচ্ছে, সেটি ছিল কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানির সঙ্গে ফোনালাপের সময়।
দোহা হামলার পর চাপ (Netanyahu Apology)
৯ সেপ্টেম্বর ইজরায়েলের হামলায় কাতারের রাজধানী দোহায় নিহত হন পাঁচজন, তাঁদের মধ্যে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হায়্যার ছেলে-ও ছিলেন(Netanyahu Apology)। একতরফা এই অভিযানে ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুকে ফোনে কড়া ভাষায় বলেন, “এটি মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক কূটনীতি ভেঙে দিতে পারে।
কাতারও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়, হামলাকে তারা “ক cowardly” ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়। এর ফলে কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা কার্যত বিপন্ন হয়ে পড়ে।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও ক্ষমা (Netanyahu Apology)
নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে পৌঁছনোর পর ট্রাম্প সুযোগ নেন(Netanyahu Apology)। ওভাল অফিসেই তিনি এক তিনপক্ষীয় ফোনালাপের আয়োজন করেন। সেই কলেই নেতানিয়াহু কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে “গভীর অনুশোচনা” প্রকাশ করেন, দোহায় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে আর এ ধরনের আক্রমণ না করার আশ্বাস দেন।
তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে সেই ছবি ঘিরে—যেখানে নেতানিয়াহু মাথা নিচু করে যেন লিখিত বক্তব্য পড়ছেন, আর ট্রাম্প ফোন হাতে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে আছেন। এতে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমাপ্রার্থনার শব্দ কি আসলেই নেতানিয়াহুর, নাকি হোয়াইট হাউসের লিখে দেওয়া?

আরও পড়ুন : Kolkata Metro Railway : দুর্গাপুজোয় কলকাতায় বিশেষ মেট্রো পরিষেবা, জানুন মেট্রোর সময়সূচি
ইমেজ ও কূটনৈতিক বার্তা (Netanyahu Apology)
ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই ঘটনার পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিল(Netanyahu Apology)। বিশ্লেষকদের মতে, এই দৃশ্য আসলে ছিল শক্তির প্রদর্শন—নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে ‘বশ্যতা’ স্বীকার করাতে সক্ষম হলেন ট্রাম্প।
প্রাক্তন কূটনীতিকদের মতে, এটি শুধুই প্রতীকী নয়, বরং কৌশলগতও। কাতার হামলার পর মধ্যস্থতা থেকে সরে আসছিল। নেতানিয়াহুকে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো ছিল আস্থা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা, যাতে গাজ়া যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কাতারকে ফের টেনে আনা যায়।
নজিরবিহীন মুহূর্ত (Netanyahu Apology)
“বিবি” নামে পরিচিত নেতানিয়াহু সাধারণত দৃঢ় ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন(Netanyahu Apology)। অথচ হোয়াইট হাউসের ছবিতে তাঁকে দেখা গেল মাথা নিচু, কাগজের দিকে চোখ রেখে ক্ষমা চাইছেন। এই বিরল মুহূর্তই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ছবিটি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির মহলে প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে আসল নিয়ন্ত্রণে, আর কোন নেতা তাঁর অবস্থান রক্ষা করতে কতদূর যেতে বাধ্য হলেন।


