Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সড়কের ধারে মৌমাছি-বান্ধব গাছ লাগিয়ে ‘বি করিডর’ তৈরির পরিকল্পনা করছে(NHAI Bee Corridor)। লক্ষ্য, পরাগায়ন বাড়ানো এবং মৌচাষে সহায়তা করা। তবে অভিজ্ঞ মৌচাষ বিশেষজ্ঞ রাকেশ গুপ্ত এই ধারণা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
NHAI-এর ‘বি করিডর’ প্রকল্প (NHAI Bee Corridor)
গোল্ডেন হাইভ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা রাকেশ গুপ্তর মতে, শুধু নিম, করঞ্জ ও জাম গাছ লাগালেই বাণিজ্যিক মৌচাষ সফল হবে না। এই গাছগুলির ফুল ফোটার সময় প্রায় একই, ফলে বছরে মাত্র ৫০-৬০ দিন মৌমাছি পর্যাপ্ত মধুরস পাবে। বাকি সময় খাদ্যের অভাব দেখা দেবে। একটি সুস্থ মৌচাকের জন্য সারা বছর ধারাবাহিক ফুলের উৎস প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, ব্যস্ত হাইওয়ের ধারে মৌচাক রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কা, যানবাহনের বায়ুচাপ এবং রাতের আলোয় বিভ্রান্ত হয়ে বহু মৌমাছির মৃত্যু হতে পারে। তাই এই করিডরকে বাণিজ্যিক মৌচাষের আদর্শ স্থান বলা ঠিক নয়।
আরও একটি উদ্বেগের বিষয় হল দূষণ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহাসড়কের কাছাকাছি গাছের ফুল ও পরাগে ভারী ধাতুর দূষণ জমতে পারে, যা মধুর গুণমান ও বাজারমূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভারতের বহু ক্ষুদ্র মৌচাষি বছরে বিভিন্ন সময় ফুলের সন্ধানে শত শত কিলোমিটার দূরে মৌচাক নিয়ে যান। রাকেশ গুপ্তর মতে, শুধুমাত্র রাস্তার ধারের গাছ লাগানো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
অন্যদিকে, জম্মু অঞ্চলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাসড়কের ধারের গাছপালা ও কৃষিজমিতে বুনো দেশীয় মৌমাছির বৈচিত্র্য বনাঞ্চলের তুলনায় বেশি। ব্লু-ব্যান্ডেড বি, কার্পেন্টার বি-সহ বিভিন্ন বুনো পরাগবাহক এই ধরনের পরিবেশে সহজেই টিকে থাকতে পারে(NHAI Bee Corridor)।
ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, NHAI-এর ‘বি করিডর’ প্রকল্প বাণিজ্যিক মৌচাষের তুলনায় বুনো পরাগবাহক সংরক্ষণে বেশি কার্যকর হতে পারে(NHAI Bee Corridor)। তাই পরাগায়ন সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যিক মৌচাষ এই দুই উদ্দেশ্যকে এক করে দেখা উচিত নয়।



