Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ নবমবারের মতো দেশের বাজেট পেশ করলেন ( Nirmala Sitharaman)। অর্থনীতির হিসেব-নিকেশের পাশাপাশি এদিন আরেকটি দিক ঘিরেও নজর ছিল তিনি কী পরবেন? কারণ, বিগত কয়েক বছর ধরেই বাজেটের দিন নির্মলার শাড়ি হয়ে উঠেছে এক বিশেষ বার্তার বাহক। চলতি বছরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তিনি বেছে নিলেন তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী বেগুনি রঙের হাতে বোনা কাঞ্জিভরম শাড়ি।

ঐতিহ্য ও রাজনীতির ছোঁয়া ( Nirmala Sitharaman)
এবছর বাজেট পেশের দিন নির্মলা সীতারমণের পরনে ছিল একটি গভীর বেগুনি রঙের কাঞ্জিভরম শাড়ি, যার পুরোটা জুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম সোনালি জরির কাজ। শাড়ির পাড় কালো রঙের, সেখানেও জরির অলঙ্করণ চোখে পড়ার মতো। শাড়ির সঙ্গে তিনি পরেছিলেন হলুদ রঙের ফুলহাতা সোয়েটার এবং কাঁধে নিয়েছিলেন মেরুন ও কালো রঙের চাদর যা পুরো সাজকে দেয় একটি গম্ভীর অথচ আভিজাত্যের ছাপ। চলতি বছরেই তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে কাঞ্জিভরম শাড়ি বেছে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তামিল সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, এই সাজ শুধু ফ্যাশনের নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তারও বাহক।
শ্রম, দক্ষতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক ( Nirmala Sitharaman)
কাঞ্জিভরম শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয় এটি দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন তাঁতশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। এই শাড়ি তৈরি হয় ডাবল ওয়ার্প ও ডাবল ওয়েফট পদ্ধতিতে, যার ফলে এটি অত্যন্ত মজবুত ও টেকসই হয়। খাঁটি সিল্কের সুতো প্রথমে চালের জলে ডুবিয়ে রোদে শুকোনো হয়। এরপর সোনা ও রুপার প্রলেপ দেওয়া সুতো, অর্থাৎ জরির সাহায্যে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং পরিশ্রমসাধ্য, যা তাঁতিদের দক্ষতা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। বাজেটের দিন এই ধরনের শাড়ি পরা মানে, দেশের হস্তশিল্প ও কারিগরদের প্রতি এক নীরব সমর্থনও বটে।
বাজেটসজ্জায় শিল্পের ধারাবাহিকতা ( Nirmala Sitharaman)
নির্মলা সীতারমণের বাজেটসজ্জা বরাবরই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পকলাকে সামনে এনেছে। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাজেট পেশের সময় তিনি পরেছিলেন সাদা রঙের শাড়ি, যার সোনালি পাড়ে ফুটে উঠেছিল মধুবনী শিল্প। এই শাড়িটি তৈরি করেছিলেন বিহারের শিল্পী দুলারি দেবী যিনি ২০২১ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। মধুবনী শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দুলারি দেবী মিথিলা আর্ট ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। কেরলের ঐতিহ্যবাহী কাসাভু শাড়ির উপর মধুবনী কাজ ফুটিয়ে তুলে তিনি তৈরি করেছিলেন এই বিশেষ শাড়ি, যা বাজেটের মঞ্চে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি করেছিল।

আরও পড়ুন: Anandapur Fire: শুভেন্দুর প্রতিবাদ মিছিলে ডিজের তালে ‘উদ্দাম’ নাচ! পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
পোশাকের মধ্য দিয়ে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’
নির্মলা সীতারমণের বাজেটসজ্জা ক্রমশ একটি প্রতীকী ভাষা তৈরি করেছে, যেখানে অর্থনীতি ও সংস্কৃতি পাশাপাশি হাঁটে। কখনও বিহারের মধুবনী, কখনও তামিলনাড়ুর কাঞ্জিভরম, এই সাজের মাধ্যমে ভারতের বৈচিত্র্য, হস্তশিল্প এবং আঞ্চলিক ঐতিহ্যকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরা হচ্ছে।



