Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত বাজিমাত করেছে বিশ্ব মঞ্চে। ভারতীয় দলের তরুণ ব্যাটার ঈশান সেই মঞ্চে অন্যতম নায়ক (Ishan Kishan)।
একটা ফোন পাল্টে দেয় ঈশানের জীবন (Ishan Kishan)
কুরোসওয়ার নায়ক যেমন ছিলেন তোশিরো মিফুনে, বার্গম্যানের ম্যাক্স ভন সিডো তেমনই যদি সত্যজিতের নায়ক বলা হয় তবে প্রথমেই মাথায় আসে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম। একদিকে যেমন পর্দায় দাপটের সাথে অভিনয় করে গিয়েছেন তেমনই নাটকের মঞ্চে মঞ্চস্থ করেছেন একের পর এক কালজয়ী নাটক। কিছু অভিনেতারা কিছু পরিচালকের জন্যই হয়ত শিল্পে আসেন। জলসাঘরের সেটে শিশির ভাদুড়ির ছাত্র কৃষ্ণনগরের সৌমিত্রকে, সত্যজিৎ রায় পরিচয় করিয়ে দিলেন ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে। তাঁর ‘অপু’ হিসেবে। সেই থেকে শুরু হয় ছায়াছবি জীবন (Ishan Kishan)।
‘অপুর সংসার’ তখন বিশ্বজয় করে ফেলছে। সত্যজিতের অ্যাকশন কাটে তখন বদলে যাচ্ছে তাঁর মানস পুত্র সৌমিত্রের জীবন। শুধু তাই নয় সত্যজিতের দেখানো হাতের লেখা হুবুহু অনুকরণ করে ফেলছেন তাঁর পর্দার ‘ফেলুদা’। কখনও অসীম, আবার কখনও গাঁয়ের মাস্টার গঙ্গাচরণ আবার কখনও উদয়ন পণ্ডিতে, একই অঙ্গে যেন একাধিক রূপ। কখন যে কিভাবে কার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট আসে সেটা কেউ বলতে পারে না। যে ঈশান কিষাণ এক সময় দলের বাইরে সেই ঈশান যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে এবং বাজিমাত করবেন সেটা কি কেউ কল্পনাতেও ভেবেছিলেন?

২৭ বছরের যুবক সদ্য সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দুরন্ত ঘোড়ার মতো ছুটে চলেছেন। সামনে কীসের লক্ষ্য সেটা হয়তো ঈশান নিজেই বলতে পারবেন। তবে সদ্য ঝাড়খণ্ডকে ট্রফি জিতিয়েছে ঈশান। আর সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই মেগা টুর্নামেন্টের আগেই ঈশানের কাছে ফোন আসে সূর্যকুমারের। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের প্রশ্ন ছিল, ‘‘ওয়ার্ল্ড কাপ জিতায়েগা ক্যায়া?’ আত্মবিশ্বাসী ঈশান তাঁর উত্তরে বলেন, ‘করুঙ্গা।’ সঙ্গে সঙ্গে ভরসা করা নিয়ে সূর্যের উত্তর ছিল, ‘চল কিয়া (Ishan Kishan)।’

ভারত তখন বিশ্বজয় করে ফেলেছে। সমগ্র ভারতবাসী ভাসছে বিশ্বজয়ের আনন্দের। সেই রাতে ঈশান জানাচ্ছেন যে তিনি ওই ফোন কলের স্ক্রিন শট নিয়ে রেহেছিলেন। ঈশান বলেন, ‘আমি আন্দাজ করেছিলাম, হয়তো ওয়ার্ল্ড কাপ টিমে ডাক পাওয়া নিয়েই কলটা। তাই ভরসা করার কথা বলেছিলাম। বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক দুইদিন আগে আমি একটা কার অ্যাক্সিডেন্টে আমার মাসতুতো বোনকে হারিয়েছি। আমার খুবই ক্লোজ। সব সময়ে চাইত, আমি রান করি। ফাইনালের হাফ সেঞ্চুরিটা আমি ওকেই উৎসর্গ করছি। জানি, ও যেখানেই থাকুক, সবচেয়ে খুশি হবে।’
আরও পড়ুন: Mohammed Amir: ভবিষ্যৎবাণী না মিলতেই মেজাজ গরম ‘বাবা’ আমিরের
রোহিত-রাহুল জমানায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফর চলাকালীন মেন্টাল ব্রেক নিতে চেয়ে জাতীয় টিম থেকে বেরিয়ে যান ঈশান। তাঁর দায়বদ্ধতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে সেই সময় এবং তাঁকে পড়তে হয় সমালোচনার মুখেও। তার পরে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে টিমে ফেরা, এবং বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নেন তিনি। বিশ্বকাপ জিতে ঈশান বলেন, বিরাট কোহলিকে দেখে রোজই শেখার চেষ্টা করি। ‘যে ভাবে বিরাট ভাই বছরের পর বছর খেলাটার জন্য খিদে জাগিয়ে রেখেছে, সেটা দেখে শেখার চেষ্টা করি।’ বাকিটা এখন ইতিহাস (Ishan Kishan)।


