Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ গলতে গলতেই ফের উত্তেজনা (Pahalgam)। পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ হামলার পর ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাঘাতের কয়েক মাস পরই ফের জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে ঘনিয়ে আসছে আতঙ্কের মেঘ। পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির নতুন নড়াচড়ায় চাপে নিরাপত্তা বাহিনী।

রক্তে রাঙা উপত্যকা (Pahalgam)
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে গিয়েছিল এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা। পর্যটকে ভরা বাসে নির্বিচারে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। মুহূর্তে রক্তাক্ত উপত্যকা প্রাণ হারান ২৬ জন পর্যটক। ঘটনার পর থেকেই ভারতীয় সেনা ও কাশ্মীর পুলিশ শুরু করে জোরদার তল্লাশি অভিযান। একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সন্ধান মেলে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’, যার মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে চালানো হয় নির্ভুল হামলা।

ভারতের কঠোর প্রত্যাঘাত (Pahalgam)
পহেলগাঁও হামলার জবাবে ভারতীয় সেনার প্রতিশোধমূলক অভিযান অপারেশন সিঁদুর ছিল নিখুঁত পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিনির্ভর আঘাত। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে লস্কর ও জইশ-ই-মোহাম্মদের একাধিক শিবির ধ্বংস করা হয়। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটাই সাম্প্রতিক কালে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ক্রস-বর্ডার অপারেশন। অপারেশনের ফলেই পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহলে শুরু হয় চাপানউতোর। ইসলামাবাদ থেকে দিল্লির দূতাবাস পর্যন্ত শীতল সম্পর্কের বরফ আরও ঘন হয়।
অপারেশন পরবর্তী কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে স্থগিত হয়ে যায় বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বাণিজ্যিক সম্পর্কও প্রায় বন্ধ। সীমান্তে বারবার সংঘর্ষবিরতির লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ঠিক এমনই প্রেক্ষাপটে উঠে আসে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির পরবর্তী বড়সড় পরিকল্পনার খবর।
জঙ্গি সংগঠনের বৈঠক (Pahalgam)
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের ছ’ মাস পর থেকে লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ আবারও সক্রিয় হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে উঠে এসেছে, সেপ্টেম্বর মাস থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ এবং আইএসআই-এর সহায়তায় একাধিক জঙ্গি ইউনিট LoC পেরিয়ে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা। একটি লস্কর ইউনিট, সন্ত্রাসী শমসের-এর নেতৃত্বে, ড্রোনের সাহায্যে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করে নিয়ন্ত্রণ রেখার দুর্বল অংশগুলি চিহ্নিত করেছে। এই তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দা মহলে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সক্রিয়তা ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা (Pahalgam)
সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম-এর সদস্যরা যাদের মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন SSG সৈন্য ও প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী পুনরায় পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে মোতায়েন হয়েছে। এর অর্থ, সীমান্ত জুড়ে বড়সড় আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। আরও জানা গেছে, অক্টোবর মাসে PoK-তে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জামাত-ই-ইসলামি, হিজবুল মুজাহিদিন এবং আইএসআই-এর সিনিয়র কর্মকর্তারা মিলিত হন। বৈঠকে সুপ্ত সন্ত্রাসী শিবিরগুলি পুনরুজ্জীবিত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
আরও পড়ুন: Defence Sector Stock: আজ নজর রাখুন ডিফেন্স সেক্টরের এই স্টকে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
কাশ্মীরে ফের বন্দুকের গর্জন
এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার ভোররাতে কেঁপে ওঠে কিশতওয়ার। জম্মু ও কাশ্মীরের ছত্রু এলাকায় সেনা ও জঙ্গিদের মধ্যে শুরু হয় প্রবল গুলির লড়াই। গোপন সূত্রে জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফ চালায় তল্লাশি অভিযান। সেনার হোয়াইট নাইট কর্পস জানিয়েছে, সংঘর্ষে এখনও হতাহতের খবর নেই, তবে জঙ্গিদের ঘিরে ফেলেছে বাহিনী। অভিযান চলছে জোরকদমে।



