Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয়। কিন্তু সেনা ও সরকারের মধ্যে ক্ষমতার রেষারেষি (Pakistan Army), গণতন্ত্রের সংকট এবং ইমরান খানকে ঘিরে চলমান টানাপোড়েনের মাঝে এক অদ্ভুত ঘটনাই তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাক সেনার এক শীর্ষ আধিকারিকের ‘চোখ মারা’ এমন এক আচরণ, যা সেনা প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

প্রশ্নের পরেই বিতর্কিত আচরণ (Pakistan Army)
সম্প্রতি পাকিস্তান সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে সাংবাদিক আবসা কোমেন ইমরান খানকে কেন্দ্র করে সরকারের আনা একাধিক অভিযোগ “জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি, দেশদ্রোহিতা, ভারতের হাতের পুতুল” এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিক জানতে চান, সেনা ও সরকার কি এই অবস্থানে অটল, নাকি ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে? প্রশ্ন শুনেই জেনারেল চৌধুরী বলেন, “এর সঙ্গে শুধু যোগ করুন যে ইমরান খান একজন মানসিক রোগী।” এই মন্তব্যের পর তিনি হাসেন এবং প্রশ্নকারী সাংবাদিকের দিকে প্রকাশ্যে চোখ মারেন। ঠিক এই মুহূর্তটিই ক্যামেরাবন্দি হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিতে আঘাত? (Pakistan Army)
একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার এই আচরণ পাকিস্তানের প্রশাসনিক সংস্কৃতির ওপর তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বরাবরই বিতর্কিত অনেকে মনে করেন, প্রকৃত ক্ষমতা থাকে ‘ইস্টাব্লিশমেন্ট’-এর হাতে। ফলে একজন জেনারেলের হাস্যকৌতুকের ভঙ্গিতে এমন রাজনৈতিক মন্তব্য, এবং তার সঙ্গে চোখ মারা একে অনেকে রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের অবমাননা বলেই দাবি করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দায়িত্ব তথ্য দেওয়া, ব্যঙ্গ করা নয়। আদালতে বিচারাধীন ইমরান খানের বিষয়ে এমন মন্তব্য সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতার দাবি খর্ব করে। চোখ মারা–র মতো অঙ্গভঙ্গি সাংবাদিককে অসম্মান করার শামিল।
আরও পড়ুন: India: যশস্বীর শতরানে সিরিজ জয় ভারতের! রো-কো জুটির কামব্যাকে মান বাঁচল গম্ভীরের
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই টুইটার (এক্স), ফেসবুক ও ইউটিউবে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই লিখেছেন, “পাকিস্তানে গণতন্ত্রের শেষ সলতে এখনো জ্বলে, তবে নিভে আসছে।” “প্রধানমন্ত্রী এখন সেনার পুতুল মাত্র।” “একজন সাংবাদিককে এভাবে হেয় করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।” ইমরান খানের সমর্থকরা দাবি করেছেন, এই আচরণ প্রমাণ করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সরকার ও সেনা উভয়ই পক্ষপাতদুষ্ট।



