Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG-এর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে ঘিরে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে উত্তাল গোটা দেশ (PM Modi)। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, সেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পড়ুয়া সমাজ। বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ, ছাত্র সংগঠনের আন্দোলন, আদালতে মামলা, রাজনৈতিক তরজা সব মিলিয়ে নিট প্রশ্নফাঁস দেশের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় বহু পরীক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
কীভাবে সামনে আসে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ? (PM Modi)
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হয় সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার কয়েক দিনের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে প্রশ্নপত্র আগেই বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। তদন্ত শুরু হয় এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে। পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় পরীক্ষার দাবি জোরালো হয়। সরকারের তরফে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্ষোভ কমেনি।
দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ (PM Modi)
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে নামেন। শুধু ছাত্র সংগঠন নয়, সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকেও সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠতে থাকে। এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন লাদাখের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে তার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে সংসদ অভিযানে অংশ নেয় লক্ষাধিক প্রতিবাদকারী। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এত বড় শিক্ষা-দুর্নীতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন নীরব থেকেছেন।

মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)
প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দুই মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় বৈঠকে তিনি বলেন, “প্রশ্নফাঁস একটি ঘোর অন্যায় ও পাপ। যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনওরকম আপস করা যায় না।” প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, প্রশ্নফাঁসের খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা। একইসঙ্গে তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে অযথা রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা করা উচিত নয়।
কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ (PM Modi)
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পর সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রিজিজুর কথায়, পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে এখনও নীরব সরকার
যদিও প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁসের ঘটনার নিন্দা করেছেন, তবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নটি এখনও উত্তরহীন রয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি এত বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঘটে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দায়িত্ব কোথায়? ঘটনার শুরু থেকেই বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আসছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকার সেই দাবি মানার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।
রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ (PM Modi)
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রথম থেকেই এই ইস্যুতে সরব। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁস নতুন কোনও ঘটনা নয়। আগেও একাধিকবার একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু দায়িত্ব নির্ধারণ বা কঠোর শাস্তির বদলে শুধুমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করেই সরকার দায় এড়িয়ে গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ তিনি লেখেন, ২০২৪ সালেও প্রশ্নফাঁস হয়েছিল। পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেননি। আবারও একই ঘটনা ঘটল। আবার তদন্ত, আবার কমিটি। রাহুলের প্রশ্ন, “মিস্টার মোদি, কেন বারবার প্রশ্নফাঁস হচ্ছে? আপনি কেন প্রতিবারই নীরব থাকেন? শিক্ষামন্ত্রী বারবার ব্যর্থ হলেও তাঁকে কেন সরানো হচ্ছে না?” এই মন্তব্য ঘিরেও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন উদ্বেগ বাড়ছে? (PM Modi)
শিক্ষাবিদদের মতে, নিট শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর বহু বছরের পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে। যদি পরীক্ষার গোপনীয়তা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে শুধু একটি পরীক্ষাই নয়, গোটা নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজন, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানো। পরীক্ষা পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দ্রুত তদন্ত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা। পরীক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ।
আরও পড়ুন: July21 Mamata: রাতভর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে পাহারায় ছিল মমতা-অভিষেক!
বিতর্কের কেন্দ্রে নিট
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, এটি রাজনীতির বিষয় নয়, বরং দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তাদের মতে, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনায় কেবল গ্রেফতার বা তদন্ত নয়, প্রশাসনিক জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।



