Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘বিমানে এক যাত্রীর কাছে বোমা আছে, তিনিই হামলা করবেন’ এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র আতঙ্কজনক বার্তাটি ই-মেলের মাধ্যমে পৌঁছয় রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক (আরজিআই) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে (Indigo Flight)। কুয়েত থেকে হায়দরাবাদগামী ইন্ডিগোর ওই উড়ানকে ঘিরে মুহূর্তেই তৈরি হয় চরম সতর্কতা। হুমকির বিষয়টি জানামাত্রই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেয় বিমানটিকে হায়দরাবাদে নামানো হবে না, বরং নিরাপদ বিকল্প হিসেবে মুম্বইয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া (Indigo Flight)
ইন্ডিগোর Airbus A321-251NX উড়ানটি রাত ১:৫৬-এ কুয়েত থেকে উড়ে আসে এবং সকাল ৮:১০ মিনিটে মুম্বই বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পরই সমস্ত যাত্রীকে দ্রুত নামিয়ে আলাদা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানটিকে একটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় সরিয়ে রেখে শুরু হয়, বিস্ফোরক অনুসন্ধান, লাগেজ স্ক্যান, কেবিন পরীক্ষা, কার্গো এলাকার বিশেষ তল্লাশি, আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য CISF ও বিমানবন্দর পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, সব যাত্রীই সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছেন, যদিও কতজন যাত্রী ছিলেন তা এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে নীরবতা (Indigo Flight)
ঘটনা নিয়ে ইন্ডিগোর সরকারি বিবৃতি এখনও মিলেনি। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, সমস্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে তল্লাশি চলছে এবং পরিস্থিতির উপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
২৩ নভেম্বরের হুমকির স্মৃতি (Indigo Flight)
গত ২৩ নভেম্বর একই ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল হায়দরাবাদের আরজিআই বিমানবন্দরে। বাহরাইন থেকে আসা একটি বিমানে বোমা থাকার হুমকি পাওয়া গেলে সেটিকেও মুম্বইয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী তদন্তে সে হুমকি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়।
পরপর দুটি ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এ ধরনের মিথ্যা হুমকি কেবল বিপদই বাড়ায় না, বিশাল আর্থিক ক্ষতিও ডেকে আনে।
আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
অভিযোগ দায়ের করল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ
ঘটনার পর আরজিআই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। ই-মেল প্রেরককে শনাক্ত করতে সাইবার সেলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা দেখছেন, ই-মেলটি দেশের ভিতর থেকে পাঠানো হয়েছে, নাকি বিদেশ থেকে, কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের যোগ আছে কি না, এটি কি নাশকতার চেষ্টা, নাকি ভুয়ো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা কাণ্ড, পুলিশ জানিয়েছে, এটি ‘গুরুতর অভিযোগযোগ্য অপরাধ’ এবং দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘ কারাদণ্ডও হতে পারে।



