Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ চত্বরে ফের পুলিশি তৎপরতা। শুক্রবার ভোর ৪টা থেকে ৪টা ৩০-এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র সহ আরও তিন অভিযুক্ত পি, জে এবং নিরাপত্তারক্ষীকে নিয়ে ঘটনার (Kasba Case) পুনর্নির্মাণ শুরু করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ধরে চলে এই গুরুত্বপূর্ণ তদন্তপর্ব। অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে ঘটনার ধাপে ধাপে পুনর্গঠন করা হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী।
থ্রিডি স্ক্যানিং ও ভিডিয়োগ্রাফি (Kasba Case)
তদন্তকারী অফিসাররা শুধুমাত্র পুনর্নির্মাণ করেই থেমে থাকেননি। সেই সঙ্গে আনা হয় থ্রিডি স্ক্যানিং মেশিন। ঘটনাস্থলের তিন-মাত্রিক মানচিত্র (৩ডি ম্যাপিং) তৈরি করে ঘটনার পর্যালোচনা করা হয় প্রযুক্তির সাহায্যে। পাশাপাশি পুরো পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়াটি ভিডিয়োগ্রাফি করে রাখা হয়েছে ভবিষ্যৎ-প্রমাণ হিসেবে।
আরও পড়ুন: Kasba Case: কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা, রাজ্যের কাছে কেস ডায়েরি-রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
নির্যাতিতাকে নিয়ে করা হয়েছিল পুনর্নির্মাণ (Kasba Case)
ঘটনার দিন (২৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হন এক তরুণী। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে কলেজের ইউনিয়ন রুমে ধর্ষণের চেষ্টা, পরে নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় তাঁকে। নিরাপত্তারক্ষী কোনও সাহায্য করেননি, বরং অভিযুক্তদের সহায়তা করেন বলেই অভিযোগ। এর আগেই পুলিশ নির্যাতিতাকে (Kasba Case) নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করেছিল এবং তাঁর বয়ান অনুযায়ী ঘটনার সময়রেখা তৈরি করেছিল।
সিসিটিভি ও কল রেকর্ডসে গুরুত্ব (Kasba Case)
লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিনের সাত ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের ফোনকলের রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায়-সহ মোট ১৬ জনকে। পুলিশের দাবি, এই সমস্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে নির্যাতিতার বয়ানের সঙ্গে পুনর্নির্মাণে পাওয়া তথ্যের মিল রয়েছে কি না।
আরও পড়ুন: College Committees: কলেজের অন্দরে তৃণমূলের আধিপত্য! এমনকি পরিচালনার শীর্ষেও শাসক-নেতারা
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক যোগ (Kasba Case)
মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র একজন আইনজীবী এবং ল কলেজের প্রাক্তনী। জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে আগেও ১১টি মামলা ছিল। রয়েছে মহিলাদের প্রতি হেনস্থার একাধিক অভিযোগও (Kasba Case) । বর্তমানে আলিপুর আদালতে প্র্যাকটিস করলেও সম্প্রতি রাজ্য বার কাউন্সিল থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা কলেজের বর্তমান ছাত্র এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ঘটনার পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন মনোজিৎ।
শুক্রবারই অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীর পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁকে এদিন আলিপুর আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে এবং চার্জশিট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


