Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সঠিক ঘুমই কি বলে দেবে, আপনার সুস্থ থাকার উপায় (Sleeping habits)? বয়স একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যত সময় এগোয়, শরীর ও ত্বকের কোষের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসে। এর ফলেই ত্বকে দেখা দেয় বলিরেখা, চুল পড়ে যায়, রঙ বদলায়, আর মুখ হারায় তারুণ্যের উজ্জ্বলতা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের ছাপ পুরোপুরি ঠেকানো না গেলেও সেটিকে অনেকটাই ধীর করা সম্ভব। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর অন্যতম সহজ উপায় লুকিয়ে রয়েছে আমাদের প্রতিদিনের ঘুমের ভঙ্গিতেই।
মুখ গুঁজে বা পাশ ফিরে শোয়া (Sleeping habits)
- মুখের চামড়ায় রক্তসঞ্চালনে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে (Sleeping habits), ফলে ওই অংশ দ্রুত ঢিলে হয়ে যায়।
- একপাশে চাপ পড়ার কারণে বলিরেখা দ্রুত তৈরি হয় এবং সেটি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
- গাল ও চোখের চারপাশে ফোলাভাব বা পাফিনেস তৈরি হয়।
- বালিশে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ধুলো ও ফাঙ্গাস ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে ব্রণ, দাগ ও অকাল বয়সের ছাপ তৈরি করে।
- একই ভঙ্গিতে বছরের পর বছর ঘুমালে মুখের দুই পাশ অসমান হয়ে যেতে পারে, ফলে কারও মুখ একপাশে ঢিলে এবং অন্যপাশে টানটান দেখায়।
চিত হয়ে ঘুম—ত্বকের জন্য আশীর্বাদ (Sleeping habits)
- মুখে কোনও ধরনের চাপ পড়ে না, ফলে ত্বক সমানভাবে বিশ্রাম পায়।
- বলিরেখা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
- ত্বক রাতের বেলায় সহজেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।
- চোখের নিচে ফোলাভাব বা গালের ভাঁজ কম হয়।
- প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরের হরমোন ব্যালান্স বজায় রাখে, যা তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- চিত হয়ে ঘুমালে মুখ ও গলার ত্বকে অকেজো চাপ পড়ে না, আর কোষগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
ঘুমের পাশাপাশি বালিশ ও বিছানার যত্ন
- শুধু ঘুমের ভঙ্গি নয়, বালিশ ও বিছানার পরিচ্ছন্নতাও গুরুত্বপূর্ণ।
- সপ্তাহে অন্তত ১–২ বার বালিশের কভার ধুতে হবে।
- বালিশ প্রতি ১–২ বছরে একবার পরিবর্তন করতে হবে।
- চাইলে সিল্ক বা সাটিন কভার ব্যবহার করা যায় → এতে ত্বক ও চুলের ঘর্ষণ কম হয়।
- ধুলো, মাইট বা ফাঙ্গাস থেকে বাঁচতে হাইপোঅলার্জেনিক কভার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ত্বকের জন্য ঘুমের মান বজায় রাখুন
- ভালো ত্বকের জন্য শুধু ঘুমের ভঙ্গি নয়, ঘুমের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতিদিন অন্তত ৭–৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম দরকার।
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করতে হবে।
- ঘর রাখতে হবে শীতল, অন্ধকার ও শান্ত।
- ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ ব্যবহার কমাতে হবে।
- রাতে কফি, চা, অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে।
সকালের যত্ন (Sleeping habits)
- মাথার নিচে সামান্য উঁচু বালিশ ব্যবহার করুন, এতে চোখের নিচে ফোলাভাব কমবে।
- সকালে ঠান্ডা আইস কিউব হালকা করে মুখে চাপ দিন।
- হালকা ম্যাসাজ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, ত্বক টানটান হয়।
- বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
আরও পড়ুন: Ballygunge: আইনজীবীর রহস্যমৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি?
বয়সকে পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নয়, তবে তা ধীর করা একেবারেই সম্ভব। নিয়মিত চিত হয়ে ঘুমানো, বালিশ ও বিছানা পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক ত্বক পরিচর্যা—এই কয়েকটি সহজ পদক্ষেপই আপনাকে বয়সের ছাপ থেকে অনেকটা রক্ষা করতে পারে। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে এবং ত্বককে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে আজ থেকেই বদলে ফেলুন আপনার ঘুমোনোর ভঙ্গি।


