Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : গবেষণায় বলছে, মনোমালিন্যেই গভীর বাড়ে (Relationship)। ভালোবাসা মানেই শুধু মিষ্টি মুহূর্ত, হাসি-ঠাট্টা আর যত্ন নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মান-অভিমান, মতবিরোধ আর কখনও কখনও তুমুল ঝগড়াঝাটি। একে-অপরের সঙ্গে তর্ক, অভিমান কিংবা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়—এগুলো দেখে বাইরে থেকে মনে হতে পারে সম্পর্ক ভাঙনের পথে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বাস্তবটা একেবারেই উল্টো। ঝগড়া শুধু রাগ বা বিদ্বেষ উগরে দেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি সম্পর্ককে মজবুত করার অন্যতম উপায়।

মন পড়ার সুযোগ (Relationship)
দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় মনের আসল অনুভূতি গোপন করি (Relationship)। শান্ত কথোপকথনের সময় সঙ্গীর অন্তরের ক্ষত বা কষ্ট বোঝা কঠিন হয়। কিন্তু ঝগড়ার মুহূর্তে, আবেগ চেপে রাখা যায় না—মনের সব কথা, কষ্ট, অসন্তোষ অনিচ্ছায়ই বেরিয়ে আসে। ফলে ভুল বোঝাবুঝি দ্রুত দূর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ঝগড়ার সময়ের এই অকপটতা সম্পর্ককে আরও বাস্তব আর স্বচ্ছ করে তোলে।
বন্ধন আরও দৃঢ় হয় (Relationship)

সম্পর্কে কোনও “পারফেক্ট” ফর্মুলা নেই। ভালোবাসার মাঝেও মতভেদ, অভিমান, এমনকি ক্ষণিকের দূরত্বও স্বাভাবিক। বরং এই অভিমানই অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়। কারণ, ঝগড়ার পর যখন মনোমালিন্য কেটে যায়, তখন উভয়ের মধ্যে নতুন করে একে-অপরকে বোঝার চেষ্টা শুরু হয়। অভিমানের পাহাড় গলে গেলে হৃদয়ের আসল অনুভূতি উন্মোচিত হয়, যা বন্ধনকে আগের তুলনায় আরও দৃঢ় করে।
আত্মমূল্যায়নের সুযোগ (Relationship)
মনোমালিন্যের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো আত্মসমালোচনা। ঝগড়ার সময় বা পরবর্তী আলোচনায় নিজের ভুলগুলো ধরা পড়ে। শান্ত পরিস্থিতিতে যেটা হয়তো বোঝা যেত না, রাগের মুহূর্তে সেই সত্যিটা সামনে আসে। এরপর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ককে সুস্থ রাখে।
কি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে গবেষণায়!
আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন মনোবিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একেবারেই ঝগড়া করে না, তাদের সম্পর্কে অনেক সময় দূরত্ব তৈরি হয় চেপে রাখা অভিমান ও না-বলা কথা থেকে। বিপরীতে, যারা সময়ে সময়ে খোলামেলা তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের সম্পর্কে স্বচ্ছতা বেশি থাকে।
আরও পড়ুন : Kalna: কচু পাতার উপর উদ্ধার সদ্যজাত সন্তান
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে
ঝগড়া হলে ভয় পাবেন না। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমান এড়িয়ে মতবিরোধ প্রকাশ করুন। কারণ সুস্থ ঝগড়া শুধু ক্ষণিকের রাগ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার জ্বালানি।


