Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল, সুপর্ণা ঘোষ: ফের সংবাদ শিরোনামে আর জি কর হাসপাতাল (R G Kar Death)। তবে এবার কোনো আন্দোলন বা প্রতিবাদ নয়, হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও চূড়ান্ত গাফিলতির বলি হলেন এক ব্যক্তি। শুক্রবার ভোরে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফটে আটকে মৃত্যু হলো ৪০ বছর বয়সী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দমদমের নাগেরবাজারের বাসিন্দা অরূপবাবু তাঁর পুত্রকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন।
লিফটেই বিপত্তি (R G Kar Death)
ভোর রাতে লিফটে করে পাঁচতলায় যাওয়ার (R G Kar Death) সময় ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, লিফটটি কিছুটা উপরে উঠে আচমকা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সজোরে বেসমেন্টে গিয়ে আছড়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা বিভীষিকার মধ্যে আটকে থাকার পর তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যান অরূপের বৃদ্ধ পিতা। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত দাবি করেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, দমকলকে ডেকে লিফ্টের দরজা ভাঙা হলে পুত্রকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেত।
লিফট অপারেটর কেন ছিল না? (R G Kar Death)
ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং ডিসি নর্থ দীনেশ কুমার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, লিফট নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো। PWD-র ইন্ঞ্জিনিয়ারা রক্ষণাবেক্ষণ করতো। কিন্তু লিফট অপারেটর কেন ছিল না, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট
এদিকে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, এটি একটি ভয়াবহ ‘ক্রাশ ইনজুরি’। লিফটের দরজা দু’পাশ দিয়ে বুকে চেপে বসায় পলিট্রমা বা বহুবিধ আঘাত লাগে তাঁর শরীরে। পাঁজরের হাড় ভেঙে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়, মারাত্মক আঘাত লাগে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে। এমনকি মস্তিষ্কে চোটের পাশাপাশি আঙুলের হাড়ও টুকরো হয়ে গিয়েছিল এবং ফেটে গিয়েছিল কিডনি। শরীরের বিভিন্ন অংশ আক্ষরিক অর্থেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল লিফটের চাপে।
আরও পড়ুন: TMC Manifesto 2026: ‘দুয়ারে চিকিৎসা’-র সঙ্গে ‘দিদির দশ প্রতিজ্ঞা’, ইস্তেহার প্রকাশ তৃণমূলের
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে আসেন কাশিপুর বেলগাছিয়া বিধানসভার সিপিএম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্ত। অন্যদিকে, রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ এই ঘটনাকে ‘প্রশাসনিক গাফিলতি’ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। গোটা ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে আর.জি. কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে আবাসিক চিকিত্সক সংগঠন। প্রসঙ্গত, ২০২৪-এর ৮ অগস্টের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের অদূরেই এবার লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যু। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো যে আজও প্রশ্নের মুখে, এই ঘটনা তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল।


